ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন এখন দুই বছরে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 117

ছবি সংগৃহীত

 

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করেছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  উদ্বোধনের তিন বছর পরও বন্ধ ঝালকাঠির ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই বছরের লাইসেন্স ফি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) একসঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এরপর এইচএসএম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।

তবে লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান শর্ত ও তদারকি ব্যবস্থা বহাল থাকছে। নতুন লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র অথবা পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যেসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নারকোটিক বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন লাইসেন্স পাওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে নারকোটিক লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স নিয়মিত তদারকি করবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত মান ও নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ব্যবস্থাও অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিয়মিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন।

পরিদর্শনের সময় কোনো অনিয়ম, নির্ধারিত শর্তের ব্যত্যয় বা লাইসেন্সের বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। ফলে লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ দুই বছর করা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়নের চাপ কমবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন এখন দুই বছরে

আপডেট সময় ০৭:২৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করেছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় বিশ্বমানের হাসপাতাল করতে চায় চীন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই বছরের লাইসেন্স ফি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) একসঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এরপর এইচএসএম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।

তবে লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান শর্ত ও তদারকি ব্যবস্থা বহাল থাকছে। নতুন লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র অথবা পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যেসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নারকোটিক বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন লাইসেন্স পাওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে নারকোটিক লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স নিয়মিত তদারকি করবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত মান ও নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ব্যবস্থাও অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিয়মিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন।

পরিদর্শনের সময় কোনো অনিয়ম, নির্ধারিত শর্তের ব্যত্যয় বা লাইসেন্সের বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। ফলে লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ দুই বছর করা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়নের চাপ কমবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান থাকবে।