নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি, দেশ গঠনেও থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 0
নির্বাচনের আগে সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন, দেশ গঠনের কাজেও একইভাবে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, গত নির্বাচনের সময় আলেম-ওলামাদের সহযোগিতায় দেশকে একটি বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের সমস্যাগুলো এখনও শেষ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আলেম-ওলামাদের কথা দিয়েছিলেন যে বাবুনগরে আসবেন। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রিয় হুজুরের কাছে আসতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, এর খেসারত এখন দেশের মানুষকে দিতে হচ্ছে। পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ করার কারণেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চলমান গ্যাস সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের যে সমস্যা চলছে, তা আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে অনেকটা কমে আসবে।’
সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে দেশের মানুষ ও তাদের সন্তানরা খেয়ে-পরে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন বলে জানান তারেক রহমান। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবনযাপন করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি, নির্বাচনের পরেও দেশ গঠনের কাজে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে।’
দেশের মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তারেক রহমান।
আলেম-ওলামাদের সরকারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সরাসরি সরকারের অংশ না হলেও সরকারের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন। দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে আলেম-ওলামাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রোববার ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়িতে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হেলিকপ্টারটি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণের পর সেখানে অপেক্ষমাণ স্থানীয়রা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তারেক রহমানও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। পরে সড়কপথে বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।





















