ইরান সংঘাত ঘিরে কঠিন সমীকরণে ট্রাম্প, যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ এখনো অস্পষ্ট
- আপডেট সময় ১২:৩২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 22
ইরানের সঙ্গে টানা ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের সমাধানে এখনো কোনো স্পষ্ট পথ খুঁজে পাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ, কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে তিনি জটিল এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি মেনে নিলে তা ওয়াশিংটনের আগের অবস্থান থেকে বড় ধরনের ছাড় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য মেনে না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং জনপ্রিয়তার নিম্নমুখী প্রবণতাও তার জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিকে কোনো ফি বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত রুবিওর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে এগোতে পারেন।
সম্প্রতি লাস ভেগাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প সংঘাতের অবসানে চুক্তির প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানান। তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর অনুরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত বিরত রয়েছেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। পাশাপাশি চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের এ সংকট ও সীমাবদ্ধতার দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।


























