কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
- আপডেট সময় ০৫:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন। পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও নির্মাণ করে পরিচিতি পান। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১৯ সালে খোলা তার ‘রিপন মিয়া’ নামের ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।
পরিবারের দাবি, গত শনিবার রাত আটটার দিকে রিপন তাদের বাড়িতে যান। সে সময় স্কুলছাত্রীটি বাড়ির উঠানে রান্না করছিল এবং তার বাবা স্থানীয় বাজারে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এই সুযোগে তাকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যান। পরিবারের আরও দাবি, ভিডিওতে অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন আগে থেকেই ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার কারণে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি।
পরে ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সালিশের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে রিপন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীর মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

























