ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

গুম আইনের মন্ত্রিসভার অনুমোদন, সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত এ আইনে গুমকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  সিভিল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সিপিসি সংশোধন হচ্ছে: আইন উপদেষ্টা

প্রস্তাবিত আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হবে। পাশাপাশি সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

আইনের খসড়ায় গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এ আইনে তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া গুমের ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম আইনের মন্ত্রিসভার অনুমোদন, সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৮:২২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত এ আইনে গুমকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  সংসদে আজ উঠছে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ বিল

প্রস্তাবিত আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হবে। পাশাপাশি সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

আইনের খসড়ায় গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এ আইনে তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া গুমের ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।