ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরক্কো থেকে সেউতায় ঢোকার চেষ্টায় ৩৪ অভিবাসীর মৃ/ত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 48

ছবি সংগৃহীত

 

মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টায় অন্তত ৩৪ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে হাজারো মানুষের প্রবেশের চেষ্টার মধ্যে গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকেছেন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন  প্রভাব ঠেকাতে ইউরোপের তুরুপের তাস কি কিয়ার স্টারমার?

হুয়ান জেসুস ভিভাস জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এই সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। সীমান্ত পার হওয়ার সময় প্রাণহানিও বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে সেউতায় কতসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। ভিভাসের বক্তব্যের পর এই প্রথম সম্ভাব্য মোট সংখ্যার একটি সরকারি হিসাব সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মরক্কোর দিক থেকে অনেক অভিবাসী ভাসমান ইনফ্ল্যাটেবল ডিভাইস ব্যবহার করে পানিপথে সেউতায় প্রবেশ করছেন। এ সময় কয়েকজনকে ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত ফুটেজে অভিবাসীদের বড় বড় দলকে ব্রেকওয়াটার অতিক্রম করে স্থানীয় সড়কে উঠে আসতে দেখা গেছে। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, অনেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকেও সেউতায় প্রবেশ করেছেন।

উত্তর আফ্রিকার আরেক স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিলার পাশাপাশি সেউতা হলো আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে থাকা দুটি স্থলসীমান্তের একটি। এই দুই শহর ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়। এ সময় অভিবাসীদের বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটকে পড়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

স্পেনের গার্দিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর অভিবাসীদের আগমন ধীরগতিতে চলছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতিতে আকস্মিক বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসীদের পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুযোগ নেওয়া এবং অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার জন্য মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে দায়ী করেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সেউতা সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মরক্কো থেকে সেউতায় ঢোকার চেষ্টায় ৩৪ অভিবাসীর মৃ/ত্যু

আপডেট সময় ০৭:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 

মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টায় অন্তত ৩৪ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে হাজারো মানুষের প্রবেশের চেষ্টার মধ্যে গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকেছেন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন  ইতালি—সভ্যতা, শিল্প আর রন্ধনশৈলীর বিশ্বনন্দিত দেশ

হুয়ান জেসুস ভিভাস জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এই সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। সীমান্ত পার হওয়ার সময় প্রাণহানিও বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে সেউতায় কতসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। ভিভাসের বক্তব্যের পর এই প্রথম সম্ভাব্য মোট সংখ্যার একটি সরকারি হিসাব সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মরক্কোর দিক থেকে অনেক অভিবাসী ভাসমান ইনফ্ল্যাটেবল ডিভাইস ব্যবহার করে পানিপথে সেউতায় প্রবেশ করছেন। এ সময় কয়েকজনকে ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত ফুটেজে অভিবাসীদের বড় বড় দলকে ব্রেকওয়াটার অতিক্রম করে স্থানীয় সড়কে উঠে আসতে দেখা গেছে। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, অনেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকেও সেউতায় প্রবেশ করেছেন।

উত্তর আফ্রিকার আরেক স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিলার পাশাপাশি সেউতা হলো আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে থাকা দুটি স্থলসীমান্তের একটি। এই দুই শহর ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়। এ সময় অভিবাসীদের বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটকে পড়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

স্পেনের গার্দিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর অভিবাসীদের আগমন ধীরগতিতে চলছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতিতে আকস্মিক বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসীদের পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুযোগ নেওয়া এবং অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার জন্য মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে দায়ী করেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সেউতা সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।