রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, বহুমুখীকরণে জোর সরকারের
- আপডেট সময় ০৭:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 17
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই বর্তমান আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতে নতুন প্রবৃদ্ধির ধারা সৃষ্টি করতে চায় সরকার।

























