সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী
- আপডেট সময় ১০:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 24
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ একটি ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীর বিরুদ্ধে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ফারজানা ইয়াসমিন (৯) কাশিবাটি গ্রামের ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে। সে ৪১ নম্বর কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত সুরাইয়া আক্তার একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য এমাদুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদের খোকনের অভিযোগ, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঝালমুড়ি দেওয়ার কথা বলে সুরাইয়া আক্তার শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তার কানের স্বর্ণের দুল নেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এরপর মরদেহ ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয় বলেও তাদের দাবি।
দুপুর পর্যন্ত ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকায় মাইকিং করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
নিহতের খালা মরিয়ম বেগম দাবি করেন, স্বর্ণের দুলের জন্য তার বোনঝিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল বলেন, বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে সুরাইয়া আক্তারকে ফারজানাকে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে জানানো হয়।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সুরাইয়া আক্তারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

























