ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

‎১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

‎বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একাধিক রেকর্ড গড়া এই লড়াই বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের নতুন নজির স্থাপন করেছে।

‎রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ডেক্লান রাইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ১৮ মিনিটে রাইসের অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা।

‎প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে এবং যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে এবেরেচি এজের অ্যাসিস্টে আরও দুটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে চার গোল হজম করে ফ্রান্স।

‎দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুটি অ্যাসিস্ট থেকে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাঝে ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।

‎ইংল্যান্ড অবশ্য শেষদিকে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। এর মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। পাশাপাশি ১৯৫৮ সালের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়ও হন সাকা।

‎যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর অ্যাসিস্ট থেকে উসমান দেম্বেলে একটি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করলে ৬-৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়।

‎এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে উন্নীত করেন বেলিংহ্যাম। এক বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও এটি।

‎অন্যদিকে, ম্যাচে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান। এর মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে আসেন। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে অবস্থান করছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

‎এদিন আরেকটি রেকর্ড গড়েন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে। ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্ট দাঁড়ায় সাতটি। এতে তিনি ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের গড়া এক আসরে ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করেন।

‎তবে ফ্রান্সের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এর আগে কখনোই ছয় গোল হজম করেনি দলটি। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেও ৬৬ বছর পর প্রথমবার এক ম্যাচে ছয় গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো ফরাসিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

‎১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

আপডেট সময় ০৯:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

‎বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একাধিক রেকর্ড গড়া এই লড়াই বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের নতুন নজির স্থাপন করেছে।

‎রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ডেক্লান রাইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ১৮ মিনিটে রাইসের অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা।

‎প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে এবং যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে এবেরেচি এজের অ্যাসিস্টে আরও দুটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে চার গোল হজম করে ফ্রান্স।

‎দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুটি অ্যাসিস্ট থেকে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাঝে ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।

‎ইংল্যান্ড অবশ্য শেষদিকে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। এর মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। পাশাপাশি ১৯৫৮ সালের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়ও হন সাকা।

‎যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর অ্যাসিস্ট থেকে উসমান দেম্বেলে একটি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করলে ৬-৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়।

‎এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে উন্নীত করেন বেলিংহ্যাম। এক বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও এটি।

‎অন্যদিকে, ম্যাচে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান। এর মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে আসেন। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে অবস্থান করছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

‎এদিন আরেকটি রেকর্ড গড়েন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে। ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্ট দাঁড়ায় সাতটি। এতে তিনি ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের গড়া এক আসরে ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করেন।

‎তবে ফ্রান্সের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এর আগে কখনোই ছয় গোল হজম করেনি দলটি। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেও ৬৬ বছর পর প্রথমবার এক ম্যাচে ছয় গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো ফরাসিরা।