ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কি বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি? যা বলছে গবেষণা ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৪ হাজার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের ঢামেককে মানবিক নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জুবাইদা রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি শেখ মুজিব: স্পিকার কাল প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল, জানুন দেখার উপায় বস্তাবন্দি স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে, টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ‘৫ আগস্ট সেনাবাহিনী নীরব থাকলে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি ছিল’: আব্দুল হক বন্যার পানিতে ভেসে তিন শিশুর মৃত্যু, উদ্ধার মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা আপাতত স্থগিত, কূটনৈতিক আলোচনায় জোর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান হামলা-পাল্টা হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধ এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর নির্ধারিত হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএনএনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি তা স্থগিত রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। তবে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত অভিযান চালানোর সক্ষমতাও বজায় রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানে হামলা না চালাতে ট্রাম্প প্রশাসনে লবিং করছে সৌদি, ওমান ও কাতার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুদ্ধবিমানগুলোকে অস্ত্রসজ্জিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি পাইলটরা বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেন এবং জাহাজের নাবিকদের আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, ফাইটার পাইলটরা দিন-রাত প্রতিরক্ষামূলক টহল অব্যাহত রেখেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে রাতে নতুন করে মার্কিন হামলার যে দাবি করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তারা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হতে পারে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে একাধিক দফায় টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল উভয় পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং উত্তেজনা কমানো। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাত প্রশমনে সম্মতি আদায় এবং পরে কারিগরি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

আল জাজিরার বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চলমান সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে তিনি মনে করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতের অবসানের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা আপাতত স্থগিত, কূটনৈতিক আলোচনায় জোর

আপডেট সময় ১১:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান হামলা-পাল্টা হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধ এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর নির্ধারিত হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএনএনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি তা স্থগিত রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। তবে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত অভিযান চালানোর সক্ষমতাও বজায় রয়েছে।

আরও পড়ুন  নিরাপত্তা ঝুঁকিতে মার্কিন নাগরিকদের হজ পালনে, নিরুৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুদ্ধবিমানগুলোকে অস্ত্রসজ্জিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি পাইলটরা বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেন এবং জাহাজের নাবিকদের আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, ফাইটার পাইলটরা দিন-রাত প্রতিরক্ষামূলক টহল অব্যাহত রেখেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে রাতে নতুন করে মার্কিন হামলার যে দাবি করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তারা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হতে পারে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে একাধিক দফায় টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল উভয় পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং উত্তেজনা কমানো। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাত প্রশমনে সম্মতি আদায় এবং পরে কারিগরি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

আল জাজিরার বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চলমান সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে তিনি মনে করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতের অবসানের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।