ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

পবিত্র আশুরা আজ: ফেরাউনের পতন থেকে কারবালার রক্তঝরা ইতিহাস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 61

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটি একদিকে যেমন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক, অন্যদিকে মহান আল্লাহর রহমত, সত্যের জয় ও মুক্তির এক চিরন্তন স্মারক।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণে আশুরার দিনটি দুটি বড় ও সুদূরপ্রসারী ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মুসলিমদের হৃদয়ে ভাস্বর হয়ে আছে।

লোহিত সাগরে মুসা (আ.)-এর মুক্তি ও মহাসত্যের জয়,:
আশুরার আদি ইতিহাস মানব ইতিহাসের এক মহিমান্বিত অধ্যায়। এই ১০ মহররমের দিনেই মহান আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের চরম অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  পুষ্টি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: আজ ৪ জুলাই বিশ্ব কাঁঠাল দিবস

আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে হযরত মুসা (আ.) যখন লোহিত সাগরে আঘাত করেন, তখন সাগরের বুকে শুষ্ক রাস্তার সৃষ্টি হয় এবং তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নিরাপদে নদী পার হয়ে যান। অন্যদিকে অহংকারী ফেরাউন তার বিশাল সৈন্যদলসহ সেই সাগরে ডুবে মারা যায়।

মহা-সত্যের এই বিজয়ের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। হাদীস শরীফে এসেছে:
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “এটি কোন দিন যে তোমরা রোজা রাখছ?” তারা বলল, “এটি একটি মহান দিন, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার দলকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাই মুসা (আ.) শুকরিয়াস্বরূপ এ দিনে রোজা রাখতেন, সেজন্য আমরাও রোজা রাখি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.)-এর (আদর্শের) বেশি হকদার।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে রোজা রাখলেন এবং সাধারণ মুসলিমদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। [সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ২০০২ / সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৩০]

পরবর্তীতে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে মহানবী (সা.) ১০ মহররমের সাথে মিলিয়ে আগের দিন (৯ তারিখ) বা পরের দিন (১১ তারিখ) মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখার পরামর্শ দেন [সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৩৪]।

কারবালার রক্তঝরা ইতিহাস ও ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের প্রায় অর্ধশতাব্দী পর, হিজরি ৬১ সালের এই ১০ মহররমেই ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে রচিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়। তৎকালীন উমাইয়া শাসক ইয়াজিদের অন্যায়, স্বৈরাচার ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পতাকা তুলে ধরেছিলেন মহানবীর (সা.) প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)।

ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর কাছে আনুগত্য স্বীকার না করায় ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীসহ ৭২ জন সদস্যকে কারবালা প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয়। অবশেষে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্যের পথে অবিচল থেকে ১০ মহররমের এই দিনে জালিমদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)। কারবালার এই ঘটনা মুসলিম সমাজকে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করার শিক্ষা দেয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী:
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পবিত্র আশুরা আজ: ফেরাউনের পতন থেকে কারবালার রক্তঝরা ইতিহাস

আপডেট সময় ০৯:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দেশজুড়ে আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটি একদিকে যেমন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক, অন্যদিকে মহান আল্লাহর রহমত, সত্যের জয় ও মুক্তির এক চিরন্তন স্মারক।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণে আশুরার দিনটি দুটি বড় ও সুদূরপ্রসারী ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মুসলিমদের হৃদয়ে ভাস্বর হয়ে আছে।

লোহিত সাগরে মুসা (আ.)-এর মুক্তি ও মহাসত্যের জয়,:
আশুরার আদি ইতিহাস মানব ইতিহাসের এক মহিমান্বিত অধ্যায়। এই ১০ মহররমের দিনেই মহান আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের চরম অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  আশুরা আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে সাহস জোগায়: প্রধান উপদেষ্টা

আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে হযরত মুসা (আ.) যখন লোহিত সাগরে আঘাত করেন, তখন সাগরের বুকে শুষ্ক রাস্তার সৃষ্টি হয় এবং তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নিরাপদে নদী পার হয়ে যান। অন্যদিকে অহংকারী ফেরাউন তার বিশাল সৈন্যদলসহ সেই সাগরে ডুবে মারা যায়।

মহা-সত্যের এই বিজয়ের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। হাদীস শরীফে এসেছে:
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “এটি কোন দিন যে তোমরা রোজা রাখছ?” তারা বলল, “এটি একটি মহান দিন, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার দলকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাই মুসা (আ.) শুকরিয়াস্বরূপ এ দিনে রোজা রাখতেন, সেজন্য আমরাও রোজা রাখি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.)-এর (আদর্শের) বেশি হকদার।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে রোজা রাখলেন এবং সাধারণ মুসলিমদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। [সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ২০০২ / সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৩০]

পরবর্তীতে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে মহানবী (সা.) ১০ মহররমের সাথে মিলিয়ে আগের দিন (৯ তারিখ) বা পরের দিন (১১ তারিখ) মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখার পরামর্শ দেন [সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৩৪]।

কারবালার রক্তঝরা ইতিহাস ও ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের প্রায় অর্ধশতাব্দী পর, হিজরি ৬১ সালের এই ১০ মহররমেই ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে রচিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়। তৎকালীন উমাইয়া শাসক ইয়াজিদের অন্যায়, স্বৈরাচার ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পতাকা তুলে ধরেছিলেন মহানবীর (সা.) প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)।

ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর কাছে আনুগত্য স্বীকার না করায় ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীসহ ৭২ জন সদস্যকে কারবালা প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয়। অবশেষে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্যের পথে অবিচল থেকে ১০ মহররমের এই দিনে জালিমদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)। কারবালার এই ঘটনা মুসলিম সমাজকে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করার শিক্ষা দেয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী:
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন।