ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ১২:৫৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 21
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের করা এক মন্তব্যের জেরে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।
সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বারবার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সরাসরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।
এক ভিডিও বার্তায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বন্ধু ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ইতালি কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করে না এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মেলোনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের চেয়ে নিজের মিত্রদের প্রতিই বেশি কঠোর আচরণ করেন। এতে পশ্চিমা জোটের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়ার পরই ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিতের ঘোষণা দেন। তাঁর মায়ামিতে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। তাজানি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
ইতালির সরকারের অন্য সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও বলেন, এমন মন্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালির স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মত্যাগকারী মার্কিন সেনাদের স্মৃতির প্রতিও এটি অসম্মানজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তোও ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, মেলোনি কোনো পরিস্থিতিতেই ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কারও কাছে অনুরোধ করার মানুষ নন। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং উভয় দেশের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। অভিবাসন ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নানা বিষয়ে তাঁদের অবস্থানের মিলও ছিল। ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের পর মেলোনি তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন এবং অভিষেক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং ভ্যাটিকান-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই বিতর্ক সেই দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


























