মোটরসাইকেল চুরির দায়ে, কারাগারে আ:লীগ নেতা
- আপডেট সময় ০১:২১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 19
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া মো. আব্দুস সালাম (৫০) উপজেলার ৫ নম্বর দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। বুধবার, ১০ জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মহিষমারী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফরহাদ আলীর বাড়ির বারান্দা থেকে সোমবার রাতে একটি ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরদিন সকালে মোটরসাইকেলটির খোঁজ করতে গিয়ে ফরহাদ আলী স্থানীয়ভাবে জানতে পারেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম টাকার বিনিময়ে সেটি উদ্ধার করে দিতে পারবেন। পরে তিনি আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মোটরসাইকেলের অবস্থান সম্পর্কে জানেন বলে দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ফরহাদ আলীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে ওই নম্বর মুছে দেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ২ হাজার টাকা নেন আব্দুস সালাম। পরে মঙ্গলবার বিকালে মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীকে ঠাকুরগাঁও সদর কোর্ট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ আছে।
এজাহার অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর ফরহাদ আলীকে অপেক্ষা করতে বলে আব্দুস সালাম সেখান থেকে চলে যান এবং পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় এলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ফেলেন।
পরিবার ও ভুক্তভোগী সূত্রের দাবি, ওই সময় মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুস সালামকে আটক করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ফরহাদ আলী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।



















