ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; মোট প্রাণহানি ৩১

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / 91

ছবি সংগৃহীত

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের একজনের বয়স মাত্র ৪ মাস এবং অন্যজনের ১০ মাস। এদের মধ্যে একজন জামালপুর সদর উপজেলার এবং অপরজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এই দুই শিশুর মৃত্যুসহ হাসপাতালটিতে হাম উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জামালপুরের ৪ মাস বয়সী শিশুটি গত ১১ মে সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ মে বিকেলে মারা যায়। অন্যদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের ১০ মাস বয়সী শিশুটি গত ৫ মে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৩ মে ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বুধবার সকালে হাসপাতালের হাম ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন  সন্তানকে হাম ও ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচাতে যে দোয়া পড়বেন

হাসপাতালে বর্তমানে হাম আক্রান্ত রোগীর চাপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ৯৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিবিড় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৯৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শেষ রক্ষা হয়নি ৩১ জনের। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো শিশুর শরীরে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; মোট প্রাণহানি ৩১

আপডেট সময় ১২:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের একজনের বয়স মাত্র ৪ মাস এবং অন্যজনের ১০ মাস। এদের মধ্যে একজন জামালপুর সদর উপজেলার এবং অপরজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এই দুই শিশুর মৃত্যুসহ হাসপাতালটিতে হাম উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জামালপুরের ৪ মাস বয়সী শিশুটি গত ১১ মে সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ মে বিকেলে মারা যায়। অন্যদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের ১০ মাস বয়সী শিশুটি গত ৫ মে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৩ মে ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বুধবার সকালে হাসপাতালের হাম ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন  গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে, আশঙ্কায় জাতিসংঘ

হাসপাতালে বর্তমানে হাম আক্রান্ত রোগীর চাপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ৯৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিবিড় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৯৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শেষ রক্ষা হয়নি ৩১ জনের। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো শিশুর শরীরে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।