ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / 46

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ রোববার ভোরে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি নয় তলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন শিশুসন্তান রয়েছেন, যাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তারা রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধরা হলেন—সবজি বিক্রেতা কালাম (৪৭), তাঁর স্ত্রী সালমা (৩৫), ছেলে মুন্না (১২), বড় মেয়ে মুন্নি (১০) ও ছোট মেয়ে কথা (৫)। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বরুকদিয়ায়। স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কালাম ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. রাকিব জানান, ভোরে সালমা বেগম রান্না করার জন্য চুলা ধরাতে গেলে ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘুমিয়ে থাকা কালাম ও তাঁর তিন সন্তান দগ্ধ হন। সালমা বেগম দগ্ধ অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও বাকিরা ভেতরে আটকা পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

আরও পড়ুন  চীনে রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের মৃত্যু

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের শরীরই উল্লেখযোগ্যভাবে দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সালমার ৩২ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ, মুন্নির ৩৫ শতাংশ এবং শিশু কথার ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবার অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার চুলার হোস পাইপ বা সিলিন্ডারের সংযোগস্থলে ছিদ্র থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। বর্তমানে বিস্ফোরণস্থল ও ভবনের সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ রোববার ভোরে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি নয় তলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন শিশুসন্তান রয়েছেন, যাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তারা রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধরা হলেন—সবজি বিক্রেতা কালাম (৪৭), তাঁর স্ত্রী সালমা (৩৫), ছেলে মুন্না (১২), বড় মেয়ে মুন্নি (১০) ও ছোট মেয়ে কথা (৫)। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বরুকদিয়ায়। স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কালাম ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. রাকিব জানান, ভোরে সালমা বেগম রান্না করার জন্য চুলা ধরাতে গেলে ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘুমিয়ে থাকা কালাম ও তাঁর তিন সন্তান দগ্ধ হন। সালমা বেগম দগ্ধ অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও বাকিরা ভেতরে আটকা পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

আরও পড়ুন  হাতিরপুলের খাবার দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিটের চেষ্টায় রক্ষা

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের শরীরই উল্লেখযোগ্যভাবে দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সালমার ৩২ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ, মুন্নির ৩৫ শতাংশ এবং শিশু কথার ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবার অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার চুলার হোস পাইপ বা সিলিন্ডারের সংযোগস্থলে ছিদ্র থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। বর্তমানে বিস্ফোরণস্থল ও ভবনের সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।