বাংলাদেশ সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির মোতায়েনের পরিকল্পনা ভারতের
- আপডেট সময় ০৬:২৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / 16
বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েন করার একটি নজিরবিহীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সীমান্তের যেসব দুর্গম এলাকায় ভৌগোলিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সেখানেই এই হিংস্র সরীসৃপ মোতায়েনের কথা ভাবছে দেশটি।
গত ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের ইউনিটগুলোকে নদীমাতৃক এলাকায় এই সরীসৃপ মোতায়েনের ‘সম্ভাব্যতা’ যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি নির্দেশনায় এই পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
ভারত ও বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত দুর্গম, যার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি।
বিএসএফ-এর দাবি, এই নদীমাতৃক ও ফাঁকা অঞ্চলগুলো ব্যবহার করেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ও অপরাধ সংঘটিত হয়। সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই কৃত্রিম বেড়ার বিকল্প হিসেবে বন্যপ্রাণী ব্যবহারের এই প্রস্তাবনা সামনে আনা হয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা জানাজানি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার গবেষক অংশুমান চৌধুরী এবং অ্যাক্টিভিস্ট হর্ষ মান্দার একে ‘প্রকৃতির মাধ্যমে মানুষের ওপর সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তাদের দাবি, সাপ বা কুমির সাধারণ নাগরিক ও অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম নয়। এটি সীমান্ত সংলগ্ন জনগোষ্ঠীকে আতঙ্কিত করার একটি কৌশল এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও এই পরিকল্পনার পরিণাম নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রাকৃতিক বন্যার সময় এই বিষধর সাপ বা হিংস্র কুমিরগুলো লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি চরমভাবে বাড়বে।
এছাড়া বিএসএফ-এর অনেক কর্মকর্তাও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বিষয়টির মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা চলছে।























