ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের অপ্রাসঙ্গিক আইন সংশোধনের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০২:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / 11
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের যে সমস্ত আইন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ‘দ্য বাংলাদেশ ল’স (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট’ প্রণয়নের মাধ্যমে তৎকালীন অপ্রাসঙ্গিক আইনগুলো বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছিল। তবে সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যহীন আইনগুলো পরিবর্তনের লক্ষ্যে ল’ কমিশন কাজ করছে। কমিশনের সুপারিশ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার সম্পন্ন করবে।
একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আরও জানান যে, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক ২৩,৮৬৫টি মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট মামলার সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান নিরূপণ করা কঠিন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১,৪২,৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান বর্তমানে সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান প্রশাসন বিচার বিভাগ থেকে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করা এবং ঔপনিবেশিক আমলের সেকেলে আইনগুলো সংস্কার করে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে।























