ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’: আমিনুল হক সিরিজ হারলেও আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি জ্যোতি ও নাহিদাদের ড. ইউনূসের এক বছরের ভিভিআইপি সুবিধা বহাল থাকছে, অন্যদের জন্য ছয় মাস ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নবাবগঞ্জে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আটক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা; সঙ্গীর গুলিতেই প্রাণ গেল ডাকাতের রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু: বিদ্যুৎ খাতের নতুন যুগে বাংলাদেশ ফিনল্যান্ড হাজার হ্রদের দেশ ও নীরব সুখের ঠিকানা ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়; বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল কাল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট; বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ; আহত অন্তত ৮

ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়; বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের (কিশোরগঞ্জ-৪) দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদ কক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।

রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ আনেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিরোধী দলের নেতা আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। তারা আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলে, তারা নাকি সভ্য!” স্পিকার এ সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতার আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিরোধী দলের নেতা বলেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তান, আবার তিনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটি ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং সংসদে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ, যা সারা জাতি লাইভ দেখছে। আপনাদের এমন আচরণে শিশুরাও লজ্জা পাবে। সংসদ বিধি মোতাবেক না চললে এটি আর সংসদ থাকবে না।” তিনি বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে পরবর্তীতে যুক্তি দিয়ে তা খণ্ডন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ৫ই আগস্ট পরবর্তী থানা লুট ও পুলিশ হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “৫ই আগস্টের পরের ঘটনাগুলো কোনো আইনেই ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। নিরপরাধ পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।” এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সংসদে শোক প্রস্তাব নেওয়ারও তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে একটি ঐতিহাসিক সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “সংসদ নেতা অনেক মহান কাজ করেছেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ এক নয়। দেশের ভেতরের চক্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

ফজলুর রহমানের প্রায় প্রতিটি বাক্যের সময়ই বিরোধী বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ ও হট্টগোল চলতে থাকে, যা সংসদীয় পরিবেশে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়; বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল

আপডেট সময় ০৬:০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের (কিশোরগঞ্জ-৪) দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদ কক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।

রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ আনেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিরোধী দলের নেতা আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। তারা আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলে, তারা নাকি সভ্য!” স্পিকার এ সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতার আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিরোধী দলের নেতা বলেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তান, আবার তিনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটি ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং সংসদে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ, যা সারা জাতি লাইভ দেখছে। আপনাদের এমন আচরণে শিশুরাও লজ্জা পাবে। সংসদ বিধি মোতাবেক না চললে এটি আর সংসদ থাকবে না।” তিনি বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে পরবর্তীতে যুক্তি দিয়ে তা খণ্ডন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ৫ই আগস্ট পরবর্তী থানা লুট ও পুলিশ হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “৫ই আগস্টের পরের ঘটনাগুলো কোনো আইনেই ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। নিরপরাধ পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।” এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সংসদে শোক প্রস্তাব নেওয়ারও তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে একটি ঐতিহাসিক সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “সংসদ নেতা অনেক মহান কাজ করেছেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ এক নয়। দেশের ভেতরের চক্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

ফজলুর রহমানের প্রায় প্রতিটি বাক্যের সময়ই বিরোধী বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ ও হট্টগোল চলতে থাকে, যা সংসদীয় পরিবেশে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।