ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’: আমিনুল হক সিরিজ হারলেও আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি জ্যোতি ও নাহিদাদের ড. ইউনূসের এক বছরের ভিভিআইপি সুবিধা বহাল থাকছে, অন্যদের জন্য ছয় মাস ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নবাবগঞ্জে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আটক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা; সঙ্গীর গুলিতেই প্রাণ গেল ডাকাতের রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু: বিদ্যুৎ খাতের নতুন যুগে বাংলাদেশ ফিনল্যান্ড হাজার হ্রদের দেশ ও নীরব সুখের ঠিকানা ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়; বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল কাল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট; বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ; আহত অন্তত ৮

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম; বুকসমান পানিতে স্থবির বন্দরনগরী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

 

টানা কয়েক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের এই আকস্মিক বন্যায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়। এতে নগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও রাহাত্তারপুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সরাসরি বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে।

আজ এসএসসি’র ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। ফাওজিয়া জামান নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, হল থেকে বের হয়ে কোনো যানবাহন না পেয়ে নোংরা পানির মধ্য দিয়েই দীর্ঘ পথ হেঁটে আসতে হয়েছে। মুরাদপুর ও প্রবর্তক এলাকায় পানি বুকসমান হওয়ায় সেখানে সব ধরণের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শত শত মানুষ মাঝপথে আটকা পড়েন।

নগরীর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অতীতে কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হলে এমন পরিস্থিতি হতো, কিন্তু এখন মাত্র ১-২ ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরী অচল হয়ে পড়ছে। উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুরাদপুরের অবস্থা দেখে সড়ক না কি সমুদ্র—তা বোঝার উপায় নেই।” জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় জানান, সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও দুপুর ১টার পর বৃষ্টির তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। তিন ঘণ্টা পর পর বৃষ্টির পরিমাণ হিসাব করা হয় বিধায় পরবর্তী পর্যবেক্ষণে মোট বৃষ্টিপাতের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

নগরীর পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত সচল না হলে রাতের মধ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম; বুকসমান পানিতে স্থবির বন্দরনগরী

আপডেট সময় ০৪:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

টানা কয়েক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের এই আকস্মিক বন্যায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়। এতে নগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও রাহাত্তারপুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সরাসরি বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে।

আজ এসএসসি’র ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। ফাওজিয়া জামান নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, হল থেকে বের হয়ে কোনো যানবাহন না পেয়ে নোংরা পানির মধ্য দিয়েই দীর্ঘ পথ হেঁটে আসতে হয়েছে। মুরাদপুর ও প্রবর্তক এলাকায় পানি বুকসমান হওয়ায় সেখানে সব ধরণের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শত শত মানুষ মাঝপথে আটকা পড়েন।

নগরীর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অতীতে কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হলে এমন পরিস্থিতি হতো, কিন্তু এখন মাত্র ১-২ ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরী অচল হয়ে পড়ছে। উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুরাদপুরের অবস্থা দেখে সড়ক না কি সমুদ্র—তা বোঝার উপায় নেই।” জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় জানান, সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও দুপুর ১টার পর বৃষ্টির তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। তিন ঘণ্টা পর পর বৃষ্টির পরিমাণ হিসাব করা হয় বিধায় পরবর্তী পর্যবেক্ষণে মোট বৃষ্টিপাতের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

নগরীর পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত সচল না হলে রাতের মধ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।