ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনার ফ্রিজ কি ঝুঁকিপূর্ণ? যেসব ভুলে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 36

ছবি সংগৃহীত

 

বাসার নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর এখন অপরিহার্য। খাবার তাজা রাখা থেকে শুরু করে অপচয় রোধে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসি বিস্ফোরণের পাশাপাশি ফ্রিজ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতা বা যান্ত্রিক ত্রুটি আপনার শখের ফ্রিজটিকেও এক মরণঘাতী যন্ত্রে পরিণত করতে পারে।

রেফ্রিজারেটর বিস্ফোরণের প্রধান কারণ মূলত এর কম্প্রেসার। তবে কম্প্রেসার ছাড়াও আরও কিছু সুনির্দিষ্ট ভুলের কারণে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।

আরও পড়ুন  ক্যারিবীয় সাগরে ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

যেসব কারণে বিস্ফোরণ হতে পারে: 

১. পুরোনো ফ্রিজ ও কম্প্রেসারের ওপর চাপ: ১০-১৫ বছরের পুরোনো ফ্রিজ ব্যবহার করলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকায় পুরোনো কম্প্রেসার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, যা এক পর্যায়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।

২. অতিরিক্ত খাবার মজুদ: ফ্রিজে ক্ষমতার চেয়ে বেশি জিনিস রাখলে ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকে না। ফলে কম্প্রেসারকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে যন্ত্রটি গরম হয়ে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

৩. নিম্নমানের ইলেকট্রনিক এক্সেসরিজ: ফ্রিজের জন্য সস্তা বা নিম্নমানের প্লাগ ও সকেট ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভোল্টেজের ওঠানামা বেশি হলে স্টেবিলাইজার ব্যবহার না করলে কম্প্রেসার জ্বলে গিয়ে বা ফেটে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

৪. গ্যাস লিক ও কয়েলের ত্রুটি: ফ্রিজে ব্যবহৃত কুলিং গ্যাস (রেফ্রিজারেন্ট) যদি কোনো কারণে লিক হয়ে বৈদ্যুতিক স্পার্কের সংস্পর্শে আসে, তবে মুহূর্তেই তা বিস্ফোরিত হতে পারে।

৫. অপরিষ্কার রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণ: ফ্রিজের কুণ্ডলী বা কয়েল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এবং পেছনের অংশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা না রাখলে অপারেটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনা এড়াতে যা করবেন: 

১. প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে ফ্রিজ সার্ভিসিং করান

২. ফ্রিজের পেছন দিকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।

৩. ফ্রিজ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, পোড়া গন্ধ বা ধোঁয়া বের হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং মিস্ত্রি ডাকুন।

৪. ভোল্টেজের ওঠানামা সামলাতে উন্নত মানের স্টেবিলাইজার ব্যবহার করুন।

৫. ভেজা হাতে ফ্রিজ পরিষ্কার বা সুইচ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

সচেতনতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা রুখে দিতে। আপনার ও আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজই ফ্রিজটির অবস্থা পরীক্ষা করে নিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার ফ্রিজ কি ঝুঁকিপূর্ণ? যেসব ভুলে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

আপডেট সময় ১০:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

বাসার নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর এখন অপরিহার্য। খাবার তাজা রাখা থেকে শুরু করে অপচয় রোধে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসি বিস্ফোরণের পাশাপাশি ফ্রিজ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতা বা যান্ত্রিক ত্রুটি আপনার শখের ফ্রিজটিকেও এক মরণঘাতী যন্ত্রে পরিণত করতে পারে।

রেফ্রিজারেটর বিস্ফোরণের প্রধান কারণ মূলত এর কম্প্রেসার। তবে কম্প্রেসার ছাড়াও আরও কিছু সুনির্দিষ্ট ভুলের কারণে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।

আরও পড়ুন  ফের দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, সতর্কতা জারি

যেসব কারণে বিস্ফোরণ হতে পারে: 

১. পুরোনো ফ্রিজ ও কম্প্রেসারের ওপর চাপ: ১০-১৫ বছরের পুরোনো ফ্রিজ ব্যবহার করলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকায় পুরোনো কম্প্রেসার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, যা এক পর্যায়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।

২. অতিরিক্ত খাবার মজুদ: ফ্রিজে ক্ষমতার চেয়ে বেশি জিনিস রাখলে ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকে না। ফলে কম্প্রেসারকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে যন্ত্রটি গরম হয়ে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

৩. নিম্নমানের ইলেকট্রনিক এক্সেসরিজ: ফ্রিজের জন্য সস্তা বা নিম্নমানের প্লাগ ও সকেট ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভোল্টেজের ওঠানামা বেশি হলে স্টেবিলাইজার ব্যবহার না করলে কম্প্রেসার জ্বলে গিয়ে বা ফেটে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

৪. গ্যাস লিক ও কয়েলের ত্রুটি: ফ্রিজে ব্যবহৃত কুলিং গ্যাস (রেফ্রিজারেন্ট) যদি কোনো কারণে লিক হয়ে বৈদ্যুতিক স্পার্কের সংস্পর্শে আসে, তবে মুহূর্তেই তা বিস্ফোরিত হতে পারে।

৫. অপরিষ্কার রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণ: ফ্রিজের কুণ্ডলী বা কয়েল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এবং পেছনের অংশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা না রাখলে অপারেটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনা এড়াতে যা করবেন: 

১. প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে ফ্রিজ সার্ভিসিং করান

২. ফ্রিজের পেছন দিকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।

৩. ফ্রিজ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, পোড়া গন্ধ বা ধোঁয়া বের হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং মিস্ত্রি ডাকুন।

৪. ভোল্টেজের ওঠানামা সামলাতে উন্নত মানের স্টেবিলাইজার ব্যবহার করুন।

৫. ভেজা হাতে ফ্রিজ পরিষ্কার বা সুইচ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

সচেতনতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা রুখে দিতে। আপনার ও আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজই ফ্রিজটির অবস্থা পরীক্ষা করে নিন।