দেশে মে মাস পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৩:০২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 24
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও দেশে আগামী এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার বর্তমানে জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আমদানিকৃত সকল জ্বালানি সময়মতো দেশে এসে পৌঁছেছে। মার্চ ও এপ্রিলে আমদানির ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও মজুত সক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার এখন বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির বৈচিত্র্যকরণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উপায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সাজানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন ডিজেল এবং ৩১ হাজার ৮২১ টন অকটেন মজুত রয়েছে। এ ছাড়াও পেট্রোল ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস ওয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন মজুত আছে। এই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে আগামী দুই মাস অনায়াসেই পার করা সম্ভব বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের দীর্ঘ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের মতে, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় স্টেশনগুলোতে যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনের সমস্যার কথা বিবেচনা করে সরকার যে আগাম মজুত গড়ে তুলেছে, তা অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের এই সফর ও আশ্বাসের পর বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে।
























