ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

৫ বছর আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করবে এআই: অক্সফোর্ড বিজ্ঞানীদের সাফল্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

হৃদযন্ত্র বিকল বা হার্ট ফেইলিউর হওয়ার ঝুঁকি অন্তত ৫ বছর আগেই শনাক্ত করতে সক্ষম এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল তৈরি করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। বিশ্বজুড়ে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। নতুন এই প্রযুক্তি রোগটি পূর্ণমাত্রায় দেখা দেওয়ার আগেই পূর্বাভাস দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অক্সফোর্ডের গবেষক দল জানিয়েছেন, তাদের তৈরি এই এআই টুলটি হৃদযন্ত্রের চারপাশে থাকা ফ্যাট টিস্যু বা চর্বির সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করে। চর্বির স্তরে থাকা প্রদাহ বা অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে এই প্রযুক্তি। গবেষকদের মতে, এটি কার্ডিয়াক সিটি স্ক্যান ব্যবহার করে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি নির্ধারণের প্রথম কার্যকর পদ্ধতি।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের এআই দখলে রাখতে 'স্টারগেট' প্রকল্পে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা

ইংল্যান্ডের এনএইচএস-এর (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) ৭২ হাজার রোগীর ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই টুলটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে:
এটি ৮৬ শতাংশ নির্ভুলতায় পরবর্তী পাঁচ বছরের হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
সর্বোচ্চ ঝুঁকির রোগীদের হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বনিম্ন ঝুঁকির তুলনায় ২০ গুণ বেশি।
উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে একজনের পাঁচ বছরের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণার এই ফলাফল গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক চারালাম্বোস আন্তোনিয়াডেস বলেন, “জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে হার্ট ফেইলিউর চিকিৎসায় আমরা বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। এই টুলটি কোনো মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিটি রোগীর জন্য একটি নির্দিষ্ট ঝুঁকি স্কোর তৈরি করতে পারে।”
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, “হার্ট ফেইলিউর প্রায়ই অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলে হৃদপেশির গুরুতর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত হবে।”

অক্সফোর্ডের গবেষক দল ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে বুকের যেকোনো সাধারণ সিটি স্ক্যান থেকেই এই এআই ব্যবহার করে হৃদরোগের ঝুঁকি মাপা সম্ভব হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন

৫ বছর আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করবে এআই: অক্সফোর্ড বিজ্ঞানীদের সাফল্য

আপডেট সময় ১১:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

হৃদযন্ত্র বিকল বা হার্ট ফেইলিউর হওয়ার ঝুঁকি অন্তত ৫ বছর আগেই শনাক্ত করতে সক্ষম এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল তৈরি করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। বিশ্বজুড়ে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। নতুন এই প্রযুক্তি রোগটি পূর্ণমাত্রায় দেখা দেওয়ার আগেই পূর্বাভাস দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অক্সফোর্ডের গবেষক দল জানিয়েছেন, তাদের তৈরি এই এআই টুলটি হৃদযন্ত্রের চারপাশে থাকা ফ্যাট টিস্যু বা চর্বির সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করে। চর্বির স্তরে থাকা প্রদাহ বা অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে এই প্রযুক্তি। গবেষকদের মতে, এটি কার্ডিয়াক সিটি স্ক্যান ব্যবহার করে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি নির্ধারণের প্রথম কার্যকর পদ্ধতি।

আরও পড়ুন  তরুণদের এআই ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়বে অন্তর্বর্তী সরকার: আসিফ মাহমুদ

ইংল্যান্ডের এনএইচএস-এর (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) ৭২ হাজার রোগীর ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই টুলটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে:
এটি ৮৬ শতাংশ নির্ভুলতায় পরবর্তী পাঁচ বছরের হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
সর্বোচ্চ ঝুঁকির রোগীদের হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বনিম্ন ঝুঁকির তুলনায় ২০ গুণ বেশি।
উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে একজনের পাঁচ বছরের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণার এই ফলাফল গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক চারালাম্বোস আন্তোনিয়াডেস বলেন, “জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে হার্ট ফেইলিউর চিকিৎসায় আমরা বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। এই টুলটি কোনো মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিটি রোগীর জন্য একটি নির্দিষ্ট ঝুঁকি স্কোর তৈরি করতে পারে।”
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, “হার্ট ফেইলিউর প্রায়ই অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলে হৃদপেশির গুরুতর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত হবে।”

অক্সফোর্ডের গবেষক দল ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে বুকের যেকোনো সাধারণ সিটি স্ক্যান থেকেই এই এআই ব্যবহার করে হৃদরোগের ঝুঁকি মাপা সম্ভব হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান