কলকাতায় হামলার হুমকির মুখে মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন মমতার; প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
- আপডেট সময় ০১:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 27
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতাকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের দেওয়া সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার (৬ এপ্রিল) নদীয়া জেলার নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরীতে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন এবং নৈতিক দায়ভার গ্রহণ করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ভারত কোনো ‘ভুয়া অভিযান’ চালালে তার বদলে কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালানো হতে পারে। এই মন্তব্যের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ বা বক্তব্য না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা ব্যানার্জি।
জনসভায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন বলেন কলকাতাকে টার্গেট করবেন, তখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে কেন একবারও বললেন না যে— আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব (উই উইল টেক স্ট্রং অ্যাকশন)?” মোদির এই নিশ্চুপ থাকাকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা ‘ব্লুপ্রিন্ট’ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের মন্তব্য করানোর পেছনে কারা রয়েছে? তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দিয়ে কে এই কথা বলিয়েছে? কারা বলিয়েছে? আমি এর তদন্ত চাই।” কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে এ ধরনের হুমকি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
রোববার কোচবিহারের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। এর জবাবে মমতা ব্যানার্জি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সীমান্ত পাহারা দেওয়া এবং অনুপ্রবেশ রোধ করা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। যদি অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে তার দায়ভার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি পাল্টাপ্রশ্ন করেন, “যদি কোনো অনুপ্রবেশকারী কোথাও ঢুকে থাকে, তবে সেই জমিদারি তো আপনার। আপনি আগে পদত্যাগ করুন।”
পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিক তালিকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তার দায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই নিতে হবে।






















