হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বরগুনা সদর ‘রেড জোন’ ঘোষণা, ৩ শিশুর মৃত্যু
- আপডেট সময় ০৩:১৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
বরগুনা সদর উপজেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ইতিমধ্যে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশের মধ্যেই হামের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩২ জন হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২৫ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত রোগীদের মধ্যে তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও এই রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে কেবল প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না।
বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলেয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“ছেলে তিন দিন ধরে ভর্তি, কিন্তু প্যারাসিটামল ছাড়া সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টের।”
একইভাবে ঢলুয়া এলাকার শিউলি বেগম জানান, মাত্র চার দিনে তার অসুস্থ শিশুর ওষুধের পেছনে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা তাদের পরিবারের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে সদর উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করেছি। আশা করছি দ্রুতই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”
বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বরের সাথে শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
























