ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বরগুনা সদর ‘রেড জোন’ ঘোষণা, ৩ শিশুর মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 157

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা সদর উপজেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ইতিমধ্যে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশের মধ্যেই হামের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩২ জন হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২৫ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত রোগীদের মধ্যে তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও এই রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে কেবল প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ সুদানে কলেরার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু বেড়ে ৮৩, আক্রান্ত ১,৩৫১

বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলেয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“ছেলে তিন দিন ধরে ভর্তি, কিন্তু প্যারাসিটামল ছাড়া সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টের।”

একইভাবে ঢলুয়া এলাকার শিউলি বেগম জানান, মাত্র চার দিনে তার অসুস্থ শিশুর ওষুধের পেছনে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা তাদের পরিবারের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে সদর উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করেছি। আশা করছি দ্রুতই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বরের সাথে শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বরগুনা সদর ‘রেড জোন’ ঘোষণা, ৩ শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:১৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনা সদর উপজেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ইতিমধ্যে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশের মধ্যেই হামের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩২ জন হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২৫ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত রোগীদের মধ্যে তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও এই রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে কেবল প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ সুদানে কলেরার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু বেড়ে ৮৩, আক্রান্ত ১,৩৫১

বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলেয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“ছেলে তিন দিন ধরে ভর্তি, কিন্তু প্যারাসিটামল ছাড়া সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টের।”

একইভাবে ঢলুয়া এলাকার শিউলি বেগম জানান, মাত্র চার দিনে তার অসুস্থ শিশুর ওষুধের পেছনে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা তাদের পরিবারের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে সদর উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করেছি। আশা করছি দ্রুতই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বরের সাথে শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।