ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্কট বেসেন্ট জানান, সীমিত পরিসরের এই পদক্ষেপ রুশ সরকারকে উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন  হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাল্টা অভিযান

স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের শাসনের কারণে সৃষ্ট হুমকি ও অস্থিরতার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানির দাম কম রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্বালানিবান্ধব নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কমাতে সহায়তা করছে। তেলের দামের এই সাময়িক বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদি একটি সমস্যা, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও অর্থনীতির জন্য উপকার বয়ে আনবে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে আরও কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেয়। এর ফলে ভারত ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার সুযোগ পায়।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে তেল ব্যবহার করা হবে এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ব্যাংকিং, আবাসন ও নগর বিষয়ক কমিটির কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তারা কমিটির চেয়ারম্যান টিম স্কটকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ কয়েকজন সদস্য মার্চের শেষ দিকে স্কট বেসেন্টের সঙ্গে সংসদীয় শুনানির অনুরোধও জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ।

বৃহস্পতিবার ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রণালি বন্ধ থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১১:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্কট বেসেন্ট জানান, সীমিত পরিসরের এই পদক্ষেপ রুশ সরকারকে উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়াতে আগ্রহী বিটিএমএ, স্থায়ী শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের শাসনের কারণে সৃষ্ট হুমকি ও অস্থিরতার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানির দাম কম রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্বালানিবান্ধব নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কমাতে সহায়তা করছে। তেলের দামের এই সাময়িক বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদি একটি সমস্যা, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও অর্থনীতির জন্য উপকার বয়ে আনবে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে আরও কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেয়। এর ফলে ভারত ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার সুযোগ পায়।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে তেল ব্যবহার করা হবে এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ব্যাংকিং, আবাসন ও নগর বিষয়ক কমিটির কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তারা কমিটির চেয়ারম্যান টিম স্কটকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ কয়েকজন সদস্য মার্চের শেষ দিকে স্কট বেসেন্টের সঙ্গে সংসদীয় শুনানির অনুরোধও জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ।

বৃহস্পতিবার ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রণালি বন্ধ থাকবে।