ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষের শর্ত দিলেন
- আপডেট সময় ০২:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
- / 15
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পক্ষ থেকে এটি উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।
শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, তিনি রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইরান শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আর কখনও ইরানের ওপর হামলা করবে না—এমন আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেওয়া।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমদিকে তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেছিল। তাই প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দ্রুত ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে—ওয়াশিংটনের এমন ধারণা বাস্তবে ঠিক প্রমাণিত হয়নি। বরং অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করার সক্ষমতার কারণে যুদ্ধের শেষটা অনেকটা ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েল গত ৮ মার্চ তেহরানে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
এর জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী–তে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে ওই পথে অনেক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৬৫ ডলার।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজন হলে এই প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও যেতে দেবে না। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কায় ইরাক তাদের তেলবন্দর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
এ ছাড়া ওমানের সালালাহ বন্দরে একটি ড্রোন আঘাত হানার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানের ভেতরে মতভেদ
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এখনও কঠোর অবস্থান বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক ভিডিও বার্তায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। তিনি বলেন, এসব দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালাতে না দেয়, তাহলে ইরানও তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান দ্রুত শেষ হতে পারে। তার দাবি, ইরানে আঘাত করার মতো লক্ষ্যবস্তু প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে ব্যয় ও জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েক দিনের মধ্যেই এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক বার্তা থাকলেও বাস্তবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।





















