ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জোড়া সুপার ওভারেও প্রোটিয়াদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল আফগানরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 1131

ছবি: সংগৃহীত

 

আহমেদাবাদের ১ লাখ ৩২ হাজারি স্টেডিয়াম গ্যালারিতে দর্শক না থাকায় হয়তো শুনশান ছিল, কিন্তু মাঠের লড়াই ছিল তার ঠিক উল্টো। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম আফগানিস্তান ম্যাচটি এক কথায় ছিল ‘পাগলাটে’। গ্যালারি খাঁ খাঁ করলেও টেলিভিশনের পর্দায় নজর ছিল লাখ লাখ ভক্তের। দুইবার সুপার ওভার হওয়ার পর অবশেষে রোমাঞ্চকর এক জয় ছিনিয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের ক্ষত নিয়ে মাঠে নামা আফগানিস্তান আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের জন্য চরম পরীক্ষা নিয়েছে। প্রথম সুপার ওভারে আফগানরা যখন ১৭ রান তুলল, তখন গ্যালারি খাঁ খাঁ করলেও টিভির সামনে বসা দর্শকদের মনে হয়েছিল আফগানিস্তান বুঝি আজ ইতিহাস গড়বে। কিন্তু প্রোটিয়ারাও পাল্টা লড়াই করে ঠিক ১৭ রানই তুলে নেয়। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর এই লড়াই গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে।

আরও পড়ুন  ফ্রান্স সেনেগাল থেকে শেষ সামরিক ঘাঁটিও তুলে নিচ্ছে, পশ্চিম আফ্রিকায় ৬৫ বছরের উপস্থিতির অবসান

২৪ রানের লক্ষ্য! দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া বিশাল রানের জবাবে নেমে খেই হারিয়ে ফেলে আফগানরা। মোহাম্মদ নবী প্রথম বলে ছক্কা মারতে ব্যর্থ হওয়ার পর কেশব মহারাজের দ্বিতীয় বলেও বড় শটের ঝুঁকি নেন।

ম্যাচের ভাগ্য তখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করা আফগানদের শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। কাগিসো রাবাদার শুরুটা হলো এলোমেলো প্রথমেই নো বল, এরপর ওয়াইড। অর্থাৎ কোনো বল না করেই ২ রান উপহার! এরপর শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। প্রথম বৈধ ডেলিভারিতে নুর আহমাদ ক্যাচ তুলে দিলেও ইয়ানসেন তা হাতে রাখতে পারেননি। তবে স্ট্রাইক ধরে রাখতে নুর কোনো রান নেননি। পরের বলেই ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আফগানদের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু নাটক তখনও বাকি, পরের বলটিই আবার ডট দিয়ে বসেন নুর।

শেষ তিন বলে যখন আফগানদের ৫ রান প্রয়োজন, তখন নো বল দেন রাবাদা। সেই নো বলে আরও দুই রান নেন নুর।

ডি কক-রিকেলটনের ব্যাটিং তাণ্ডব বনাম রশিদের জোড়া আঘাত: ১৮৭ রানে থামল দক্ষিণ আফ্রিকা টস জিতে ফিল্ডিং নিতে দ্বিধা করেননি রশিদ খান। তৃতীয় ওভারেই ফারুকির আঘাত প্রোটিয়া শিবিরে স্বস্তি কেড়ে নিলেও, ডি কক ও রিকেলটনের অনবদ্য ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। তবে দলীয় ১২৭ রানের মাথায় রশিদ খান এক ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে বিদায় করলে বড় সংগ্রহের পথে বাধা পায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ইনিংসের মূল নায়ক ছিলেন রায়ান রিকেলটন। আফগান বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়ে তিনি খেলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৬১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর উইকেট শিকারে আফগানিস্তানের সেরা বোলার ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

জোড়া সুপার ওভারেও প্রোটিয়াদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল আফগানরা

আপডেট সময় ০৮:০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আহমেদাবাদের ১ লাখ ৩২ হাজারি স্টেডিয়াম গ্যালারিতে দর্শক না থাকায় হয়তো শুনশান ছিল, কিন্তু মাঠের লড়াই ছিল তার ঠিক উল্টো। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম আফগানিস্তান ম্যাচটি এক কথায় ছিল ‘পাগলাটে’। গ্যালারি খাঁ খাঁ করলেও টেলিভিশনের পর্দায় নজর ছিল লাখ লাখ ভক্তের। দুইবার সুপার ওভার হওয়ার পর অবশেষে রোমাঞ্চকর এক জয় ছিনিয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের ক্ষত নিয়ে মাঠে নামা আফগানিস্তান আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের জন্য চরম পরীক্ষা নিয়েছে। প্রথম সুপার ওভারে আফগানরা যখন ১৭ রান তুলল, তখন গ্যালারি খাঁ খাঁ করলেও টিভির সামনে বসা দর্শকদের মনে হয়েছিল আফগানিস্তান বুঝি আজ ইতিহাস গড়বে। কিন্তু প্রোটিয়ারাও পাল্টা লড়াই করে ঠিক ১৭ রানই তুলে নেয়। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর এই লড়াই গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে।

আরও পড়ুন  ফ্রান্স সেনেগাল থেকে শেষ সামরিক ঘাঁটিও তুলে নিচ্ছে, পশ্চিম আফ্রিকায় ৬৫ বছরের উপস্থিতির অবসান

২৪ রানের লক্ষ্য! দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া বিশাল রানের জবাবে নেমে খেই হারিয়ে ফেলে আফগানরা। মোহাম্মদ নবী প্রথম বলে ছক্কা মারতে ব্যর্থ হওয়ার পর কেশব মহারাজের দ্বিতীয় বলেও বড় শটের ঝুঁকি নেন।

ম্যাচের ভাগ্য তখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করা আফগানদের শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। কাগিসো রাবাদার শুরুটা হলো এলোমেলো প্রথমেই নো বল, এরপর ওয়াইড। অর্থাৎ কোনো বল না করেই ২ রান উপহার! এরপর শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। প্রথম বৈধ ডেলিভারিতে নুর আহমাদ ক্যাচ তুলে দিলেও ইয়ানসেন তা হাতে রাখতে পারেননি। তবে স্ট্রাইক ধরে রাখতে নুর কোনো রান নেননি। পরের বলেই ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আফগানদের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু নাটক তখনও বাকি, পরের বলটিই আবার ডট দিয়ে বসেন নুর।

শেষ তিন বলে যখন আফগানদের ৫ রান প্রয়োজন, তখন নো বল দেন রাবাদা। সেই নো বলে আরও দুই রান নেন নুর।

ডি কক-রিকেলটনের ব্যাটিং তাণ্ডব বনাম রশিদের জোড়া আঘাত: ১৮৭ রানে থামল দক্ষিণ আফ্রিকা টস জিতে ফিল্ডিং নিতে দ্বিধা করেননি রশিদ খান। তৃতীয় ওভারেই ফারুকির আঘাত প্রোটিয়া শিবিরে স্বস্তি কেড়ে নিলেও, ডি কক ও রিকেলটনের অনবদ্য ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। তবে দলীয় ১২৭ রানের মাথায় রশিদ খান এক ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে বিদায় করলে বড় সংগ্রহের পথে বাধা পায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ইনিংসের মূল নায়ক ছিলেন রায়ান রিকেলটন। আফগান বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়ে তিনি খেলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৬১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর উইকেট শিকারে আফগানিস্তানের সেরা বোলার ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।