ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সিরিয়ার নতুন জাতীয় প্রতীক ‘সোনালি ঈগল’ উন্মোচন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 288

ছবি সংগৃহীত

 

দামেস্কের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশের নতুন জাতীয় প্রতীক উন্মোচন করেছেন। পূর্বের বাজপাখির পরিবর্তে এবার প্রতীকে জায়গা পেয়েছে সোনালি ঈগল, যা দেশটির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক রাষ্ট্রের প্রত্যয় ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা) জানিয়েছে, নতুন এই ঈগল-নির্ভর প্রতীক সিরিয়ার ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের স্বপ্নকে একত্রিত করে। ঐতিহাসিকভাবেও ঈগল প্রতীক সিরিয়ার জাতীয় চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ, যা ৭ম শতাব্দীর থানিয়াত আল-উকাব যুদ্ধসহ প্রাচীন ইসলামিক সামরিক ঐতিহ্যে পাওয়া যায়। ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা-উত্তর রাষ্ট্রীয় প্রতীকেও ঈগলের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন  ২৫ বছর পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে সিরিয়ার কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন প্রতীকে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রের বার্তা তুলে ধরতে ঈগলের আগের সংস্করণের যুদ্ধবর্ম বা শিল্ড বাদ দেওয়া হয়েছে। ঈগলের মাথার ওপর রাখা হয়েছে তিনটি তারা, যা জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের অবস্থান রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নির্দেশ করে। ঈগলের লেজের পাঁচটি পালক উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্র দেশের পাঁচটি ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

নতুন ঈগলের ডানা আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং বিস্তৃত, যেখানে প্রতিটিতে সাতটি করে পালক রয়েছে দেশের ১৪টি গভর্নোরেটের প্রতীক হিসেবে। সিরীয় কর্মকর্তারা একে ‘দৃশ্যমান রাজনৈতিক চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।

প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারআ বলেন, “এই প্রতীক এমন একটি সরকারের প্রতিফলন, যা জনগণের মধ্য থেকে উঠে এসেছে এবং তাদের সেবা দেয়।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন, এই প্রতীকের মাধ্যমে সিরিয়া কেবল একটি নতুন চিহ্ন নয়, বরং কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তার ভাষায়, “পুরনো দমনমূলক বাস্তবতা পেছনে ফেলে আমরা নতুন জাতীয় চেতনায় প্রবেশ করছি, যা আমাদের বিভক্ত পরিচয়কে পুনরায় একত্র করবে।”

নতুন এই প্রতীকটি পুরোপুরি সিরীয় শিল্পীদের হাতে নির্মিত। নেতৃত্বে ছিলেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী খালেদ আল-আসালি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি রি-ব্র্যান্ডিং নয়, বরং সিরিয়ার সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যের নতুন ব্যাখ্যা।

এই প্রতীককে কেন্দ্র করে সিরিয়া তাদের ভৌগোলিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে নতুন করে নিজেদের উপস্থাপন করতে চায়।

সূত্র : আলআরাবিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরিয়ার নতুন জাতীয় প্রতীক ‘সোনালি ঈগল’ উন্মোচন

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

দামেস্কের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশের নতুন জাতীয় প্রতীক উন্মোচন করেছেন। পূর্বের বাজপাখির পরিবর্তে এবার প্রতীকে জায়গা পেয়েছে সোনালি ঈগল, যা দেশটির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক রাষ্ট্রের প্রত্যয় ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা) জানিয়েছে, নতুন এই ঈগল-নির্ভর প্রতীক সিরিয়ার ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের স্বপ্নকে একত্রিত করে। ঐতিহাসিকভাবেও ঈগল প্রতীক সিরিয়ার জাতীয় চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ, যা ৭ম শতাব্দীর থানিয়াত আল-উকাব যুদ্ধসহ প্রাচীন ইসলামিক সামরিক ঐতিহ্যে পাওয়া যায়। ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা-উত্তর রাষ্ট্রীয় প্রতীকেও ঈগলের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন  পলাতক ৭০ কর্মকর্তাকে সিরিয়ার হাতে হস্তান্তর করেছে লেবানন

নতুন প্রতীকে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রের বার্তা তুলে ধরতে ঈগলের আগের সংস্করণের যুদ্ধবর্ম বা শিল্ড বাদ দেওয়া হয়েছে। ঈগলের মাথার ওপর রাখা হয়েছে তিনটি তারা, যা জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের অবস্থান রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নির্দেশ করে। ঈগলের লেজের পাঁচটি পালক উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্র দেশের পাঁচটি ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

নতুন ঈগলের ডানা আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং বিস্তৃত, যেখানে প্রতিটিতে সাতটি করে পালক রয়েছে দেশের ১৪টি গভর্নোরেটের প্রতীক হিসেবে। সিরীয় কর্মকর্তারা একে ‘দৃশ্যমান রাজনৈতিক চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।

প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারআ বলেন, “এই প্রতীক এমন একটি সরকারের প্রতিফলন, যা জনগণের মধ্য থেকে উঠে এসেছে এবং তাদের সেবা দেয়।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন, এই প্রতীকের মাধ্যমে সিরিয়া কেবল একটি নতুন চিহ্ন নয়, বরং কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তার ভাষায়, “পুরনো দমনমূলক বাস্তবতা পেছনে ফেলে আমরা নতুন জাতীয় চেতনায় প্রবেশ করছি, যা আমাদের বিভক্ত পরিচয়কে পুনরায় একত্র করবে।”

নতুন এই প্রতীকটি পুরোপুরি সিরীয় শিল্পীদের হাতে নির্মিত। নেতৃত্বে ছিলেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী খালেদ আল-আসালি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি রি-ব্র্যান্ডিং নয়, বরং সিরিয়ার সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যের নতুন ব্যাখ্যা।

এই প্রতীককে কেন্দ্র করে সিরিয়া তাদের ভৌগোলিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে নতুন করে নিজেদের উপস্থাপন করতে চায়।

সূত্র : আলআরাবিয়া।