ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ৭ পুলিশ ট্রাইব্যুনালে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
  • / 457

ছবি সংগৃহীত

 

 

জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (২৫ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে কারাগার থেকে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

আরও পড়ুন  বন্দরে জোড়া খুন: সাবেক কাউন্সিলরসহ চারজন গ্রেপ্তার

মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেবে তদন্ত সংস্থা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে বিজয়ের দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আশুলিয়ায় পুলিশের গুলি ও স্থানীয় এমপি সাইফুল ইসলাম ও তার ক্যাডার বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের অনেকেই এখন স্থায়ীভাবে পঙ্গু। পুলিশের গুলিতে ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আশুলিয়া ও সাভারে প্রাণ হারান কমপক্ষে ৭৫ জন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির মরদেহ টেনে একটি ভ্যানে তুলছেন। সেই ভ্যানে আরও কয়েকটি মরদেহ দেখা যায়। শেষ লাশটি ব্যানার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে আরও পুলিশ সদস্য জড়ো হয়। ভিডিওর ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডে একটি নির্বাচনী পোস্টার দেখা যায়, যাতে স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আবুল হোসেনের নাম রয়েছে। পোস্টার দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার পাশে। পরবর্তীতে লাশগুলো থানার সামনে এনে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

লোমহর্ষক এ ঘটনার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা পরে একটি মামলায় রূপ নেয়। মামলায় গত ২৪ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি এখনও পলাতক।

তবে মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ, ডিবি পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ৭ পুলিশ ট্রাইব্যুনালে

আপডেট সময় ০২:০৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

 

 

জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (২৫ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে কারাগার থেকে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

আরও পড়ুন  তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে ‘পালানোর সময়’ গাড়িচাপায় যুবক নিহত

মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেবে তদন্ত সংস্থা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে বিজয়ের দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আশুলিয়ায় পুলিশের গুলি ও স্থানীয় এমপি সাইফুল ইসলাম ও তার ক্যাডার বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের অনেকেই এখন স্থায়ীভাবে পঙ্গু। পুলিশের গুলিতে ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আশুলিয়া ও সাভারে প্রাণ হারান কমপক্ষে ৭৫ জন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির মরদেহ টেনে একটি ভ্যানে তুলছেন। সেই ভ্যানে আরও কয়েকটি মরদেহ দেখা যায়। শেষ লাশটি ব্যানার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে আরও পুলিশ সদস্য জড়ো হয়। ভিডিওর ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডে একটি নির্বাচনী পোস্টার দেখা যায়, যাতে স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আবুল হোসেনের নাম রয়েছে। পোস্টার দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার পাশে। পরবর্তীতে লাশগুলো থানার সামনে এনে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

লোমহর্ষক এ ঘটনার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা পরে একটি মামলায় রূপ নেয়। মামলায় গত ২৪ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি এখনও পলাতক।

তবে মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ, ডিবি পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।