ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 443

ছবি সংগৃহীত

 

মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, নিরাপত্তার অভাব ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রবিবার (৪ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কৌশলগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন  মায়ানমারে তহবিল সংকটে খাদ্য সহায়তা বন্ধের আশঙ্কা, বিপাকে লাখো মানুষ

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের এখনো কোনো কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দফা ঢল বাংলাদেশে নামে। এর আগেও কয়েক দফায় প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল।”

প্রথম দিকে সংকট মোকাবেলায় দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “আমি তখনই সতর্ক করেছিলাম যে এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। আজ তা প্রমাণিত হয়েছে একজন রোহিঙ্গাকেও এখনো ফেরত পাঠানো যায়নি,” বলেন উপদেষ্টা।

তিনি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়াকে ‘বৃথা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা কূটনীতি পরিহার করতে পারি না, তবে একথা মানতে হবে যে শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যথেষ্ট নয়।”

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায় হতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এমন কোনো স্থানে তারা ফিরবে না, যেখানে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।”

মায়ানমারে গণতন্ত্র কখনো ছিল এমন ধারণা নাকচ করে তিনি বলেন, “এমনকি অং সান সু চির আমলেও দেশটি আধা-সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। আর বর্তমানে মায়ানমার এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মায়ানমারের স্থায়ী সমাধানের জন্য দেশটির তিনটি প্রধান পক্ষ সামরিক জান্তা, আরাকান আর্মি এবং ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)-কে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে আরাকান আর্মি, যারা রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে।”

তিনি রোহিঙ্গা সংকটে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সক্রিয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টার বাইরে একটি ব্যাপক কৌশল প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, নিরাপত্তার অভাব ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রবিবার (৪ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কৌশলগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন  মায়ানমারের মঠে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের এখনো কোনো কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দফা ঢল বাংলাদেশে নামে। এর আগেও কয়েক দফায় প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল।”

প্রথম দিকে সংকট মোকাবেলায় দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “আমি তখনই সতর্ক করেছিলাম যে এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। আজ তা প্রমাণিত হয়েছে একজন রোহিঙ্গাকেও এখনো ফেরত পাঠানো যায়নি,” বলেন উপদেষ্টা।

তিনি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়াকে ‘বৃথা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা কূটনীতি পরিহার করতে পারি না, তবে একথা মানতে হবে যে শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যথেষ্ট নয়।”

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায় হতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এমন কোনো স্থানে তারা ফিরবে না, যেখানে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।”

মায়ানমারে গণতন্ত্র কখনো ছিল এমন ধারণা নাকচ করে তিনি বলেন, “এমনকি অং সান সু চির আমলেও দেশটি আধা-সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। আর বর্তমানে মায়ানমার এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মায়ানমারের স্থায়ী সমাধানের জন্য দেশটির তিনটি প্রধান পক্ষ সামরিক জান্তা, আরাকান আর্মি এবং ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)-কে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে আরাকান আর্মি, যারা রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে।”

তিনি রোহিঙ্গা সংকটে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সক্রিয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টার বাইরে একটি ব্যাপক কৌশল প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।