ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানি তেলের পাম্পে ইউএনও’র ওপর হামলা; বডিগার্ড আহত চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার ডেনমার্ক উত্তর ইউরোপের উন্নত জীবন ও সুখের দেশ ‘জামায়াত আমির সুস্থ চিন্তা করতে পারেন না’, পল্টনে মির্জা ফখরুল উৎপাদনে ফেরার ১৫ ঘণ্টায় আবারও অচল বড়পুকুরিয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে: শ্রমমন্ত্রী মাত্র এক লাখ টাকায় রেসিং কার: রিজওয়ানের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সামান্যই দেখিয়েছে ইরান; পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি

ছাত্র ভিসা ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 185

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন হ্রাস ও ছাত্র ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন অভিবাসন আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। চলতি মাসেই এ সংক্রান্ত একটি সাদা কাগজ (হোয়াইট পেপার) প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন সীমিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হোম অফিসের তথ্যমতে, গত বছর যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ৮ হাজার আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ১৬ হাজারই ছিলেন ছাত্র ভিসাধারী। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে সরকার। হোম সেক্রেটারি ইভেট কুপার জানিয়েছেন, অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকালে আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রমাণ দিলেও ভিসার মেয়াদ শেষে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন, যা স্পষ্টভাবে ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার।

নতুন প্রস্তাবনায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কম বেতনের চাকরিতে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বিভাগের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আসা ফি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ব্যর্থতা এবং রিফর্ম পার্টির উত্থান সরকারকে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। রিফর্ম পার্টি ইতোমধ্যে ১০টি কাউন্সিল, র‍্যানকন ও হেলসবির উপনির্বাচন এবং গ্রেটার লিংকনশায়ার মেয়র পদ দখল করেছে।

লেবার এমপি জো হোয়াইট সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন আর দোটানায় থাকার সময় নেই, ট্রাম্পের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল আইডি চালু ও আঞ্চলিক গ্যাং তদন্তের মতো পদক্ষেপ নিতেও দেরি করা যাবে না।

তবে লেবার পার্টির অনেকেই সরকারের ডানপন্থী অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। এমপি র‍্যাচেল মাসকেল বলেন, “যদি লেবার পার্টি মানুষের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, জনগণ তাদের আস্থা অন্যত্র স্থাপন করবে।”

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্বীকার করেন, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন, পরিবেশ দূষণ ও স্থানীয় সেবার ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ যৌক্তিক। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা দায় এড়িয়ে যাব না, বরং সরাসরি সমস্যাগুলোর সমাধান করব।”

অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “রিফর্ম পার্টির মতো বিভাজনমূলক রাজনীতির ফাঁদে পা না দিয়ে সরকারকে তার মৌলিক আদর্শে অটল থাকতে হবে।”

পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য একটি গবেষণা প্রতিবেদনে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হবে, যাতে ‘গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের চাকরির জন্য সীমিত রাখা হয় এবং সামাজিক সেবা খাতে ভিসার অপব্যবহার রোধে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্র ভিসা ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের

আপডেট সময় ০৭:০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন হ্রাস ও ছাত্র ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন অভিবাসন আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। চলতি মাসেই এ সংক্রান্ত একটি সাদা কাগজ (হোয়াইট পেপার) প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন সীমিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হোম অফিসের তথ্যমতে, গত বছর যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ৮ হাজার আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ১৬ হাজারই ছিলেন ছাত্র ভিসাধারী। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে সরকার। হোম সেক্রেটারি ইভেট কুপার জানিয়েছেন, অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকালে আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রমাণ দিলেও ভিসার মেয়াদ শেষে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন, যা স্পষ্টভাবে ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার।

নতুন প্রস্তাবনায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কম বেতনের চাকরিতে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বিভাগের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আসা ফি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ব্যর্থতা এবং রিফর্ম পার্টির উত্থান সরকারকে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। রিফর্ম পার্টি ইতোমধ্যে ১০টি কাউন্সিল, র‍্যানকন ও হেলসবির উপনির্বাচন এবং গ্রেটার লিংকনশায়ার মেয়র পদ দখল করেছে।

লেবার এমপি জো হোয়াইট সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন আর দোটানায় থাকার সময় নেই, ট্রাম্পের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল আইডি চালু ও আঞ্চলিক গ্যাং তদন্তের মতো পদক্ষেপ নিতেও দেরি করা যাবে না।

তবে লেবার পার্টির অনেকেই সরকারের ডানপন্থী অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। এমপি র‍্যাচেল মাসকেল বলেন, “যদি লেবার পার্টি মানুষের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, জনগণ তাদের আস্থা অন্যত্র স্থাপন করবে।”

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্বীকার করেন, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন, পরিবেশ দূষণ ও স্থানীয় সেবার ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ যৌক্তিক। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা দায় এড়িয়ে যাব না, বরং সরাসরি সমস্যাগুলোর সমাধান করব।”

অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “রিফর্ম পার্টির মতো বিভাজনমূলক রাজনীতির ফাঁদে পা না দিয়ে সরকারকে তার মৌলিক আদর্শে অটল থাকতে হবে।”

পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য একটি গবেষণা প্রতিবেদনে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হবে, যাতে ‘গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের চাকরির জন্য সীমিত রাখা হয় এবং সামাজিক সেবা খাতে ভিসার অপব্যবহার রোধে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়।