ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পারিবারিক সম্পর্কে আবেগঘন গল্প নিয়ে ওয়েব ফিল্ম ‘মিউ’ বসুন্ধরা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের যুক্তরাজ্যে ৫১৮ ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ এক মাসে ইরান-চীন বাণিজ্য ২.৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে নেপাল নির্বাচন ২০২৬: ভোট ৫ মার্চ, লড়াইয়ে ওলি-বালেনসহ শীর্ষ নেতারা শিল্প-সাহিত্যে রাজনীতিবীকরণ সভ্য সমাজের কাজ নয়: প্রধানমন্ত্রী চলতি রোজায় একদিনে ওমরাহ পালনে নতুন রেকর্ড চীনা বিমানবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য রাশিদা ও ইলহানকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাতে রাজি ইরান।

পাকিস্তানে ট্রেন অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত, সন্ত্রাস দমনে অভিযান অব্যাহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
  • / 124

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী এক যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫৫ জন যাত্রীকে জিম্মি করে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সফল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। হামলায় গোষ্ঠীটির ২৭ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং অভিযান চলমান রয়েছে।

বেলুচিস্তানের বোলান অঞ্চলে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসে এই হামলা চালানো হয়। সশস্ত্র গোষ্ঠী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে এবং ট্রেনের ৯টি বগিতে ৪০০ এরও বেশি যাত্রী ছিল। তবে, সশস্ত্র হামলাকারীদের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন  চীন ও তুরস্কের সহায়তার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান

নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, অভিযান চলবে যতক্ষণ না সব জিম্মি মুক্ত না হয়। এর মধ্যে, ৫৭ জন যাত্রীকে কোয়েটায় আনা হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় মাচ শহরে রয়েছেন।

যাত্রীদের উদ্ধার শুরুর পর সশস্ত্র গোষ্ঠী সদস্যরা ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ১৭ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে আফগানিস্তানে অবস্থিত ‘মাস্টারমাইন্ড’দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল বলে জানায় বাহিনী। তারা নারী ও শিশুদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল, যার কারণে উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ হামলার ফলে বেলুচিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কোয়েটা ও সিবি শহরের হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, “রমজান মাসে নিরীহ যাত্রীদের উপর হামলা প্রমাণ করে যে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইসলাম, পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।”

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানে ট্রেন অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত, সন্ত্রাস দমনে অভিযান অব্যাহত

আপডেট সময় ০৩:২০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী এক যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫৫ জন যাত্রীকে জিম্মি করে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সফল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। হামলায় গোষ্ঠীটির ২৭ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং অভিযান চলমান রয়েছে।

বেলুচিস্তানের বোলান অঞ্চলে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসে এই হামলা চালানো হয়। সশস্ত্র গোষ্ঠী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে এবং ট্রেনের ৯টি বগিতে ৪০০ এরও বেশি যাত্রী ছিল। তবে, সশস্ত্র হামলাকারীদের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন  ইরানের পর এবার পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েলের হামলার হুমকি

নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, অভিযান চলবে যতক্ষণ না সব জিম্মি মুক্ত না হয়। এর মধ্যে, ৫৭ জন যাত্রীকে কোয়েটায় আনা হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় মাচ শহরে রয়েছেন।

যাত্রীদের উদ্ধার শুরুর পর সশস্ত্র গোষ্ঠী সদস্যরা ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ১৭ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে আফগানিস্তানে অবস্থিত ‘মাস্টারমাইন্ড’দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল বলে জানায় বাহিনী। তারা নারী ও শিশুদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল, যার কারণে উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ হামলার ফলে বেলুচিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কোয়েটা ও সিবি শহরের হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, “রমজান মাসে নিরীহ যাত্রীদের উপর হামলা প্রমাণ করে যে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইসলাম, পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।”

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।