আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় ১২:৫৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ে ম্যাচের মতো এদিনও কোনো লড়াইই করতে পারেনি টাইগাররা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনের ফিফটিতে ভর করে টেনেটুনে ১৬০ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। সেই রান এক তুড়ি মেরেই টপকে গেছে আফগানিস্তান।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। এদিন ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম এবং সাইফ হাসান। যদিও ওপেনিং জুটি সুবিধা করতে পারেনি। দলের ৬ রানের মাথাতে বিদায় নেন তানজিদ। ৬ বলে ১ রান করেছেন তিনি।
তিনে নামা সৌম্য সরকার এদিন সুবিধা করতে পারেননি একদমই। গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফিরে গেছেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টিকে ছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান। উইকেটের চারপাশে দারুণ কিছু শটে রান বের করেফছেন শান্ত। তবে ইনিংস লম্বা হয়নি। দারুণ খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত থেমেছেন ২৩ বলে ১৫ রান করে। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও সুবিধা করতে পারেননি। ২ বলে ০ রান করে বিদায় নেন হৃদয়। মাত্র ২৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
এরপর সাইফ হাসান এবং পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিতে ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ দল। মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে ছিলেন ইমন এবং সাইফ। আফগানদের সেভাবে সুযোগ দেননি। রান বের করেছেন কার্যকরী ব্যাটিংয়ে। বাংলাদেশও কিছুটা দিশা ফিরে পায়। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন সাইফ এবং ইমন। বাংলাদেশের ইনিংসও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।
এরপর সাইফ হাসান এবং পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিতে ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ দল। মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে ছিলেন ইমন এবং সাইফ। আফগানদের সেভাবে সুযোগ দেননি। রান বের করেছেন কার্যকরী ব্যাটিংয়ে। বাংলাদেশও কিছুটা দিশা ফিরে পায়। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন সাইফ এবং ইমন। বাংলাদেশের ইনিংসও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।
ফিফটির পথেই ছিলেন সাইফ এবং ইমন। তবে ফিফটির খুব কাছে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন সাইফ হাসান। ৮২ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেছেন সাইফ। দলের ১২১ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। ৫ম উইকেট জুটিতে এসেছে ৯৩ রান।
সাত নম্বরে ক্রিজে নেমেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭ বলে ২ রান করে বিদায় নেন মিরাজ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ।
সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করার অভিযানে নামেন পারভেজ হোসেন ইমন। লেজের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে রান বের করার চেষ্টা করে গেছেন ইমন। নিজে তুলে নেন দারুণ এক ফিফটিও। ফিফটির পরেও চলেছে ইমনের উইলোবাজি। দারুণ সব শটে বাউন্ডারি বের করেছেন। সাথে স্ট্রাইক রোটেশনও চলেছে। ইমনের ব্যাটে ভর করে মাঝারি পুঁজির আশাও দেখতে থাকে বাংলাদেশ।
আরেক প্রান্তে ব্যাটাররা সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি যদিও। একের পর এক উইকেট পড়েছে। আফগান বোলারদের বল যেন পড়তেই পারেনি বাংলাদেশ। বিদায় নিয়েছেন আটে নামা শরিফুল ইসলামও। ১৪ বলে ৭ রান করে রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নিয়েছেন শরিফুল।
ইমন দারুণ খেলছিলেন। তবে তিনিও বিদায় নিয়েছেন। ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে দলের ১৫৬ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। এরপর আর বেশিক্ষণ টেকেনি বাংলাদেশের ইনিংস। ১৬০ রানেই গুঁটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। টানা দুই বলে শেষ দুই উইকেট নেন রশিদ খান। ফিরিয়েছেন আলিস আল ইসলাম এবং মুস্তাফিজুর রহমানকে। ৬ বলে ২ রান করে টিকে ছিলেন তাসকিন আহমেদ।
আফগানিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। ২টি করে উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং ইয়ামিন আহমেদজাই। ১টি করে উইকেট তুলেছেন বিলাল সামি এবং মোহাম্মদ নবী।
জবাব দিতে আফগানিস্তানের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরান। শুরুটা ভালোই করেছিলেন দুজন। বাংলাদেশের এলোমেলো বোলিংকে কাজে লাগিয়েছেন সুদে-আসলে। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ২৬ রান। ৮ বলে ৬ রান করা গুরবাজকে বোল্ড করেছেন তাসকিন আহমেদ।
তিনে নামা সেদিকউল্লাহ আতালকেও ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ১৩ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন আতাল।
টিকে থাকা ওপেনার ইবরাহিমের সাথে যোগ দেন অধিনায়ক রহমত শাহ। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন। শুরুর জোড়া আঘাতের ধাক্কা সামলে এগিয়েছে আফগানিস্তানের ইনিংস।
ক্রিজে জমে যাওয়া দুজনের জুটিটা ভেঙেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলা ইবরাহিমকে ফেরান মুস্তাফিজ। দারুণ এক ক্যাচ নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ইবরাহিমের বিদায়ের পর ক্রিজে এসেছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। আরেক প্রান্তে অধিনায়ক রহমত শাহ টিকে আছেন। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে আরও এগিয়েছে আফগানদের ইনিংস। এর মাঝেই বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছে। আফগানিস্তানের রান ১২০ ছোঁয়ার সাথে সাথেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের, ফাইনাল খেলবে আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে।
রহমত তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি। ফিফটির পরেও চলেছে তার উইলোবাজি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন শহীদিও। সুযোগ বুঝে হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারিও। সাথে সিঙ্গেলসে স্ট্রাইক রোটেশন চলেছে। ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায় বাংলাদেশ।
শেষ দিকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের বন্দরে চলে যায় আফগানরা। বাংলাদেশের বিদায়ও নিশ্চিত হয়েছে তাতে। ৮৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জিতেছে আফগানিস্তান। রহমত টিকে ছিলেন ৯০ বলে ৬৭ রান করে। অন্যদিকে শহীদি অপরাজিত ছিলেন ৫৪ বলে ৩৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে।
বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন আহমেদ। ১ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান।























