ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী অ্যাপোলোর পর এবার আর্টেমিস: চন্দ্রাভিযানের নতুন অধ্যায় দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নৃশংসতা প্রেমিকাকে হত্যার পর, দেহ ফ্রিজে রাখলেন নৌবাহিনীর কর্মী অভাব ভুলে আনন্দ দিতেই ভিডিও করেন তাজু: নেপথ্যে এক জীবন সংগ্রামের গল্প মৌলভীবাজারে মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: ৪৫০ পদে আবেদনের সুযোগ খাগড়াছড়িতে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই যুদ্ধ শেষের ছক ট্রাম্পের: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রণকৌশল ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য: সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রী শিমলা আইসিইউতে

সীতাকুণ্ডের সেই ছোট্ট শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল? ঘাতকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 131

ছবি: সংগৃহীত

দুই দিন ধরে জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষণে থাকা সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা অবশেষে হার মানল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন পাহাড়ে ঘটে যাওয়া সেই রোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রতিবেশী ‘বাবু শেখ’-এর নৃশংস পরিকল্পনার ছক।

ঘটনার পর থেকেই অভিযানে নামে জেলা পুলিশ। সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে পাহাড় পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতককে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও সে শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাত বছর বয়সী জান্নাতুল নাইমা ইরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার আসামি বাবু শেখ (৪৫)। মঙ্গলবার এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন।

আরও পড়ুন  বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ৮ বছরের শিশুর ধর্ষণের শিকার

পুলিশ বলছে, রোববার সকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে এবং মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশুটি নির্মাণাধীন সড়কের দিকে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জান্নাতুল নাইমা ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ ভোরে তার মৃত্যু হয়।

মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাড়ি কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শিশুটির মা রোববার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা করেছিলেন সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের সেই ছোট্ট শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল? ঘাতকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় ১১:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

দুই দিন ধরে জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষণে থাকা সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা অবশেষে হার মানল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন পাহাড়ে ঘটে যাওয়া সেই রোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রতিবেশী ‘বাবু শেখ’-এর নৃশংস পরিকল্পনার ছক।

ঘটনার পর থেকেই অভিযানে নামে জেলা পুলিশ। সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে পাহাড় পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতককে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও সে শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাত বছর বয়সী জান্নাতুল নাইমা ইরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার আসামি বাবু শেখ (৪৫)। মঙ্গলবার এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন।

আরও পড়ুন  সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ সাগরপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস, খুলল যোগাযোগের নতুন দিগন্ত

পুলিশ বলছে, রোববার সকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে এবং মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশুটি নির্মাণাধীন সড়কের দিকে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জান্নাতুল নাইমা ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ ভোরে তার মৃত্যু হয়।

মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাড়ি কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শিশুটির মা রোববার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা করেছিলেন সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।