ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদে ভালোবাসা আর স্বপ্নের বার্তা নিয়ে এলো কন্সট্যান্টের ‘ইচ্ছের আকাশ’ শেষ ১০ সেকেন্ডকে ইস্যু করে অপসাংবাদিকতা—রাকিবুল ইসলাম রাকিব জাতীয় নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেয়া হয়েছে: জামায়াত আমির চাঁদপুরে চাঁদার দাবিতে বিয়ে বাড়িতে হামলা, বরসহ আহত তিন জুমার নামাজে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর ফিলিস্তিন: চলমান সংঘাত ও মানবিক বাস্তবতা কালীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের গাড়ি খাদে, আহত ৮ চট্টগ্রামে বিভিন্ন দেশের জাল মুদ্রাসহ কারবারি সোহেল আটক সপ্তাহজুড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের যে কাজগুলো প্রশংসিত-

নতুন ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৩ উদ্ভাবন করল গাকৃবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / 444

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) উদ্ভাবন করেছে পুষ্টি ও সুবাসে সমৃদ্ধ একটি নতুন ধানের জাত, যার নাম ‘জিএইউ ধান-৩’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার আইভীর নেতৃত্বে চার বছরব্যাপী গবেষণার মাধ্যমে এই জাতটি সফলভাবে উদ্ভাবিত হয়। এটি গাকৃবির উদ্ভাবিত ৯০তম জাত।

জিএইউ ধান-৩ একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুগন্ধিযুক্ত ধান, যা জিঙ্ক ও লৌহে সমৃদ্ধ। এর চালে উচ্চমাত্রার জিঙ্ক ও লৌহ থাকায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে শরীর হয় শক্তি-সমৃদ্ধ। জাতটি রান্নার সময় সুগন্ধ ছড়ায়, যা ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়াবে।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে তিন ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষ: ৩ জন নিহত  

গবেষণা সূত্রে জানা যায়, গাকৃবির গবেষণা মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে ফলন ও মান যাচাইয়ের পর ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের মাধ্যমে এই জাতটি মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় বীজ বোর্ড ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল জাতটি অনুমোদন দেয়।

জিএইউ ধান-৩ আধুনিক উফশী ধানের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। দানা চিকন ও লম্বা, গাছ বড় ও কাণ্ড মোটা। এতে কুশির সংখ্যাও বেশি হওয়ায় বেশি খড় পাওয়া যায়, যা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে বিশেষভাবে উপযোগী। আমন মৌসুমে প্রায় তিন মাসে এবং বোরো মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে ধান উৎপাদন করা যায়। সাধারণ জাতের তুলনায় এটি গড়ে ১৫ ভাগ বেশি ফলন দেয়।

এই ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫.৫ থেকে ৬ টন পর্যন্ত হয়। এতে শতকরা ২৬ ভাগ অ্যামাইলেজ এনজাইম রয়েছে, যা শরীরে শর্করাকে সহজে ভেঙে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ ধানের জিঙ্ক বিশেষভাবে উপকারী।

এছাড়া, জাতটির জলবায়ু সহনশীলতা ও রোগ-পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় এটি দেশের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ায় চাষের জন্য উপযোগী ও লাভজনক।

গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিতে এ জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

উল্লেখ্য, ড. নাসরীন আক্তার আইভী এর আগে পেঁপে, ধান, টমেটো, লাউ ও মটরশুঁটি মিলিয়ে মোট ১৩টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা দেশের কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৩ উদ্ভাবন করল গাকৃবি

আপডেট সময় ০৬:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

 

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) উদ্ভাবন করেছে পুষ্টি ও সুবাসে সমৃদ্ধ একটি নতুন ধানের জাত, যার নাম ‘জিএইউ ধান-৩’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার আইভীর নেতৃত্বে চার বছরব্যাপী গবেষণার মাধ্যমে এই জাতটি সফলভাবে উদ্ভাবিত হয়। এটি গাকৃবির উদ্ভাবিত ৯০তম জাত।

জিএইউ ধান-৩ একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুগন্ধিযুক্ত ধান, যা জিঙ্ক ও লৌহে সমৃদ্ধ। এর চালে উচ্চমাত্রার জিঙ্ক ও লৌহ থাকায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে শরীর হয় শক্তি-সমৃদ্ধ। জাতটি রান্নার সময় সুগন্ধ ছড়ায়, যা ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়াবে।

আরও পড়ুন  বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধ, ৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পাওনা পরিশোধ

গবেষণা সূত্রে জানা যায়, গাকৃবির গবেষণা মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে ফলন ও মান যাচাইয়ের পর ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের মাধ্যমে এই জাতটি মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় বীজ বোর্ড ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল জাতটি অনুমোদন দেয়।

জিএইউ ধান-৩ আধুনিক উফশী ধানের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। দানা চিকন ও লম্বা, গাছ বড় ও কাণ্ড মোটা। এতে কুশির সংখ্যাও বেশি হওয়ায় বেশি খড় পাওয়া যায়, যা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে বিশেষভাবে উপযোগী। আমন মৌসুমে প্রায় তিন মাসে এবং বোরো মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে ধান উৎপাদন করা যায়। সাধারণ জাতের তুলনায় এটি গড়ে ১৫ ভাগ বেশি ফলন দেয়।

এই ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫.৫ থেকে ৬ টন পর্যন্ত হয়। এতে শতকরা ২৬ ভাগ অ্যামাইলেজ এনজাইম রয়েছে, যা শরীরে শর্করাকে সহজে ভেঙে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ ধানের জিঙ্ক বিশেষভাবে উপকারী।

এছাড়া, জাতটির জলবায়ু সহনশীলতা ও রোগ-পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় এটি দেশের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ায় চাষের জন্য উপযোগী ও লাভজনক।

গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিতে এ জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

উল্লেখ্য, ড. নাসরীন আক্তার আইভী এর আগে পেঁপে, ধান, টমেটো, লাউ ও মটরশুঁটি মিলিয়ে মোট ১৩টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা দেশের কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।