ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদে ভালোবাসা আর স্বপ্নের বার্তা নিয়ে এলো কন্সট্যান্টের ‘ইচ্ছের আকাশ’ শেষ ১০ সেকেন্ডকে ইস্যু করে অপসাংবাদিকতা—রাকিবুল ইসলাম রাকিব জাতীয় নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেয়া হয়েছে: জামায়াত আমির চাঁদপুরে চাঁদার দাবিতে বিয়ে বাড়িতে হামলা, বরসহ আহত তিন জুমার নামাজে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর ফিলিস্তিন: চলমান সংঘাত ও মানবিক বাস্তবতা কালীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের গাড়ি খাদে, আহত ৮ চট্টগ্রামে বিভিন্ন দেশের জাল মুদ্রাসহ কারবারি সোহেল আটক সপ্তাহজুড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের যে কাজগুলো প্রশংসিত-

সাফারি পার্কে অবহেলা নয়, চাই সুরক্ষা ও ভালোবাসা: পরিবেশ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 155

ছবি সংগৃহীত

 

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবস্থা আর থাকবে না এমনই আশ্বাস দিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “কোনো জায়গার অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের কাজের প্রতি কমিটমেন্ট কতটা। এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না।”

বুধবার দুপুরে শ্রীপুরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমি পুরো পার্ক ঘুরে দেখেছি। সার্বিকভাবে অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও কিছু বিষয় আমাকে কষ্ট দিয়েছে। হাতির বেষ্টনী, লেমুর চুরির স্থান এবং জাগুয়ার রাখার জায়গা তিনটি খুবই হতাশাজনক।”

আরও পড়ুন  নতুন ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৩ উদ্ভাবন করল গাকৃবি

তিনি জানান, সাফারি পার্ক শুধুই বিনোদনের জায়গা নয়, এটি মানুষের মধ্যে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার একটি উদ্যোগ। “যদি প্রাণীদের দেখেও মানুষ ভালোবাসা না পায়, তবে চিড়িয়াখানা আর সাফারি পার্কে পার্থক্য কোথায়?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সম্প্রতি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “এই চুরির বিষয়টি আমি গভীরভাবে তদন্ত করব। বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় গলদ আছে তা খুঁজে বের করা হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যদি দেখি, একই জায়গা থেকে ময়না কিংবা টিয়া হারায় না, অথচ লেমুর হারিয়ে যায়, তখনই বুঝতে হবে কোনো একটা বিশেষ সমস্যা আছে। বিষয়টি আমি চিহ্নিত করব এবং সংশোধনের পদক্ষেপ নেব।”

সাফারি পার্কের ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই পার্ককে প্রাণীবান্ধব এবং দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। প্রাণী যেন নিরাপদ থাকে, সেটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী এবং কেন্দ্রীয় সার্কেলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন প্রমুখ।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রাণীদের এখানে আনা হয়েছে সুরক্ষার জন্য, হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। দায়িত্বশীলতা ছাড়া প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব নয়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

সাফারি পার্কে অবহেলা নয়, চাই সুরক্ষা ও ভালোবাসা: পরিবেশ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

 

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবস্থা আর থাকবে না এমনই আশ্বাস দিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “কোনো জায়গার অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের কাজের প্রতি কমিটমেন্ট কতটা। এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না।”

বুধবার দুপুরে শ্রীপুরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমি পুরো পার্ক ঘুরে দেখেছি। সার্বিকভাবে অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও কিছু বিষয় আমাকে কষ্ট দিয়েছে। হাতির বেষ্টনী, লেমুর চুরির স্থান এবং জাগুয়ার রাখার জায়গা তিনটি খুবই হতাশাজনক।”

আরও পড়ুন  পরিবেশ রক্ষাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

তিনি জানান, সাফারি পার্ক শুধুই বিনোদনের জায়গা নয়, এটি মানুষের মধ্যে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার একটি উদ্যোগ। “যদি প্রাণীদের দেখেও মানুষ ভালোবাসা না পায়, তবে চিড়িয়াখানা আর সাফারি পার্কে পার্থক্য কোথায়?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সম্প্রতি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “এই চুরির বিষয়টি আমি গভীরভাবে তদন্ত করব। বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় গলদ আছে তা খুঁজে বের করা হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যদি দেখি, একই জায়গা থেকে ময়না কিংবা টিয়া হারায় না, অথচ লেমুর হারিয়ে যায়, তখনই বুঝতে হবে কোনো একটা বিশেষ সমস্যা আছে। বিষয়টি আমি চিহ্নিত করব এবং সংশোধনের পদক্ষেপ নেব।”

সাফারি পার্কের ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই পার্ককে প্রাণীবান্ধব এবং দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। প্রাণী যেন নিরাপদ থাকে, সেটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী এবং কেন্দ্রীয় সার্কেলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন প্রমুখ।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রাণীদের এখানে আনা হয়েছে সুরক্ষার জন্য, হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। দায়িত্বশীলতা ছাড়া প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব নয়।”