রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে ক্লাস বর্জন
- আপডেট সময় ০৮:২১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 49
রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পদত্যাগকৃত প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগমকে অপসারণের দাবিতে ক্লাস বর্জন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শিক্ষক ছাঁটাই, শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথিতে টেম্পারিং ও জালিয়াতির সঙ্গে তিনি জড়িত।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২০ সালে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত ১০ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগম। পরে ২০২২ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটি ওই শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সংবিধান ও গভর্নিং বডিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে টেম্পারিং ও জালিয়াতির অভিযোগও করেছেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রায় আট মাস তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ওই প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ, ৪২০ ধারায় প্রতারণা এবং ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় জালিয়াতি, জাল দলিল তৈরি ও তা আসল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত হোসনেয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন বলেও জানান অভিযোগকারীরা।
আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের পর হোসনেয়ারা বেগম প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিদ্যালয় ছেড়ে যান। তবে ২০২৫ সালের এমপিও নীতিমালার ১৯ নম্বর বিধি অনুযায়ী তিনি বহিষ্কারের যোগ্য হলেও কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ৫/৭ জন সহকারী শিক্ষক ও বহিরাগতদের নিয়ে হোসনেয়ারা বেগম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এর বিপরীতে বিদ্যালয়ের ২৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
সহকারী শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের পঞ্চম তলায় শ্রেণিকক্ষ ভেঙে নিজের বাসভবন তৈরি করা হয়েছিল। তাঁকেও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সহকারী শিক্ষক মো. আজাদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক কোনো কারণ ছাড়াই ১০ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই চাকরিচ্যুতির বিষয়টি বৈধ দেখাতে বিদ্যালয়ের রেজুলেশনে টেম্পারিং করা হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিভাবকদের কেউই শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ চান না বলে জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। কয়েকজন অভিভাবক নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবাদ সংগ্রহের সময় হোসনেয়ারা বেগমের বক্তব্য নিতে তাঁর অবস্থানরত কক্ষে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হোসনেয়ারা বেগম।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি তাই কর্তৃপক্ষের আদেশ নিয়েই গত সোমবার আমি কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হোসনেয়ারা বেগমকে অপসারণের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




















