ঢাকাকে সবুজ নগরীতে গড়তে ডিএসসিসির পরিকল্পনা
- আপডেট সময় ০৭:০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 25
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় তিন লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার, ১৩ জুন রাজধানীর গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ উদ্বোধনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। একই সময়ে সংস্থার ১০টি অঞ্চলে একযোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনের দিন মোট ৫০০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সালাম বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেমন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তেমনি বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে নতুন এক সংগ্রামে অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, নগর পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ।
ঢাকার পরিবেশগত সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরায়ণের ফলে অতিরিক্ত কংক্রিট ব্যবহারে বৃষ্টির পানি মাটিতে প্রবেশের সুযোগ কমে যাচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু জায়গা কংক্রিটমুক্ত রেখে সবুজায়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
শহরে ছাদ কৃষি সম্প্রসারণে উৎসাহ দিতে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান আবদুস সালাম। তিনি বলেন, প্রতি বছর ছাদ কৃষির সঙ্গে যুক্ত সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি ছাদ কৃষকদের হোল্ডিং ট্যাক্সে রেয়াত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির ‘জিরো ওয়েস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া নাগরিকদের মধ্যে চারা বিতরণের জন্য ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্মুক্ত স্থান ও নগর পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানের ইজারাগ্রহীতারা সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। শর্ত ভঙ্গ করলে ইজারা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসী, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















