ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 27

ছবি: সংগৃহীত

 

 

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন  সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১২৮৪ জন

শুক্রবার, ১২ জুন রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন নাঈম হাসান। তার দাবি, বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং পরে খুলশী থানায় নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনা চোরাচালানের তথ্য পাওয়ার দাবি করে এসআই শফিকুল ইসলামকে অবহিত করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। মনিরুল ইসলাম একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

নাঈম হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে তিনি শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান। পরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশাযোগে বাসায় ফেরার সময় লালখান বাজার এলাকায় তার গাড়ি থামানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, অটোরিকশা থামানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং চালকের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজের পরিচয় এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয়পত্র দেখালেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন।

নাঈমের অভিযোগ, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি, যাকে তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাকেও মারধরে অংশ নিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন।

জাতীয় দলের এই স্পিনার আরও বলেন, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করেন এবং চুপ থাকতে বলেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার পরও তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাঈম। তার দাবি, খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়ার পর তিনি ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলে তাকে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলা হয়। তবে পরে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

নাঈম জানান, থানায় নিজের মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিসিবির অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে নাঈম বলেন, তার পরিচিতি থাকায় অনেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়তে পারেন। ভবিষ্যতে যেন কাউকে এ ধরনের হয়রানির শিকার না হতে হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে অবহিত করা হয়নি। থানায় আনার পর নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে নাঈম জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত থানা ত্যাগ করবেন না বলে জানান।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে তথ্যের সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০১:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

 

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন  ফাইনালের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং শুরু, চোটে ছিটকে গেলেন হেনরি

শুক্রবার, ১২ জুন রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন নাঈম হাসান। তার দাবি, বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং পরে খুলশী থানায় নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনা চোরাচালানের তথ্য পাওয়ার দাবি করে এসআই শফিকুল ইসলামকে অবহিত করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। মনিরুল ইসলাম একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

নাঈম হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে তিনি শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান। পরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশাযোগে বাসায় ফেরার সময় লালখান বাজার এলাকায় তার গাড়ি থামানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, অটোরিকশা থামানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং চালকের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজের পরিচয় এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয়পত্র দেখালেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন।

নাঈমের অভিযোগ, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি, যাকে তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাকেও মারধরে অংশ নিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন।

জাতীয় দলের এই স্পিনার আরও বলেন, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করেন এবং চুপ থাকতে বলেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার পরও তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাঈম। তার দাবি, খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়ার পর তিনি ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলে তাকে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলা হয়। তবে পরে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

নাঈম জানান, থানায় নিজের মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিসিবির অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে নাঈম বলেন, তার পরিচিতি থাকায় অনেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়তে পারেন। ভবিষ্যতে যেন কাউকে এ ধরনের হয়রানির শিকার না হতে হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে অবহিত করা হয়নি। থানায় আনার পর নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে নাঈম জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত থানা ত্যাগ করবেন না বলে জানান।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে তথ্যের সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।