ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যু: শেরপুর-৩ আসনের ভবিষ্যৎ কি হবে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 615

ছবি: খবরের কথা

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটগ্রহণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এ বিষয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) মৃত্যুর পর এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের করণীয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনা করলেন জামায়াত আমির

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১৭(১) ধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করতে হয়।

আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নেবে।

আরপিওতে কিছু ব্যতিক্রমও উল্লেখ রয়েছে। যদি কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার আগেই মারা যান, অথবা মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমার আগে মৃত্যু ঘটে, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন পড়ে না।

এ ছাড়া দলীয় প্রার্থী মারা গেলেও যদি ওই আসনে একই দলের অন্য কোনো বৈধ প্রার্থী আগে থেকেই চূড়ান্ত তালিকায় থাকে, তাহলে ভোট স্থগিত নাও হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, কোনো একক আসনের প্রার্থীর মৃত্যুতে কেবল ওই আসনের ভোটগ্রহণই স্থগিত বা বাতিল হয়। এর ফলে সারা দেশের নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়ে না।

নতুন তফসিল ঘোষণার পর পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে, আগের তফসিলে যারা বৈধ প্রার্থী ছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানত জমা দিতে হয় না। তবে নতুন প্রার্থী চাইলে আইন অনুযায়ী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।

সংশোধিত আইনে অবস্থান:
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে আরপিও আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়। সেখানে ‘নির্বাচন’ শব্দের পরিবর্তে ‘ভোটগ্রহণ’ শব্দের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত ১৭(১) ধারার মূল বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ফলে বর্তমান আইন অনুযায়ী, জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল যদি চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত থেকে থাকেন, তাহলে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যু: শেরপুর-৩ আসনের ভবিষ্যৎ কি হবে?

আপডেট সময় ১১:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটগ্রহণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এ বিষয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) মৃত্যুর পর এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের করণীয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন  জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত: ইসি সচিব

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১৭(১) ধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করতে হয়।

আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নেবে।

আরপিওতে কিছু ব্যতিক্রমও উল্লেখ রয়েছে। যদি কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার আগেই মারা যান, অথবা মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমার আগে মৃত্যু ঘটে, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন পড়ে না।

এ ছাড়া দলীয় প্রার্থী মারা গেলেও যদি ওই আসনে একই দলের অন্য কোনো বৈধ প্রার্থী আগে থেকেই চূড়ান্ত তালিকায় থাকে, তাহলে ভোট স্থগিত নাও হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, কোনো একক আসনের প্রার্থীর মৃত্যুতে কেবল ওই আসনের ভোটগ্রহণই স্থগিত বা বাতিল হয়। এর ফলে সারা দেশের নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়ে না।

নতুন তফসিল ঘোষণার পর পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে, আগের তফসিলে যারা বৈধ প্রার্থী ছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানত জমা দিতে হয় না। তবে নতুন প্রার্থী চাইলে আইন অনুযায়ী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।

সংশোধিত আইনে অবস্থান:
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে আরপিও আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়। সেখানে ‘নির্বাচন’ শব্দের পরিবর্তে ‘ভোটগ্রহণ’ শব্দের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত ১৭(১) ধারার মূল বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ফলে বর্তমান আইন অনুযায়ী, জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল যদি চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত থেকে থাকেন, তাহলে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি।