ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি চোখের নিচের কালো দাগ: নিছক দাগ নাকি বড় কোনো রোগের সংকেত সেন্ট লুসিয়া প্রকৃতি, পাহাড় আর সমুদ্রের মোহনীয় দ্বীপ গৌরনদীতে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ল ট্রাক ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩

জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 797

ছবি: সংগৃহীত

 

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দেশে ফেরা হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

আরও পড়ুন  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে: তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের লক্ষ্যে আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহী তারা। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? আর যদি এমনটা হয়, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা ভালো বিরোধী দল হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি, দলটি ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারে। নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোটভুক্ত প্রার্থীরা।

যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি তারেক রহমান, তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক
ঢাকার একটি আদালত গত বছর রায়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাকে আশ্রয় দেওয়ার নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’

শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তার পতনের আগে বা সেই সময়ের আশপাশে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে চলে গেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দেশে ফেরা হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

আরও পড়ুন  মাগুরায় ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের পাঁচ দফা দাবি: দ্রুত বিচার ও কোরআনের আইন বাস্তবায়নের আহ্বান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের লক্ষ্যে আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহী তারা। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? আর যদি এমনটা হয়, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা ভালো বিরোধী দল হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি, দলটি ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারে। নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোটভুক্ত প্রার্থীরা।

যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি তারেক রহমান, তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক
ঢাকার একটি আদালত গত বছর রায়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাকে আশ্রয় দেওয়ার নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’

শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তার পতনের আগে বা সেই সময়ের আশপাশে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে চলে গেছেন।