ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বিগ-বি জোরদার করছে বাংলাদেশ-জাপান বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যার অভিযোগে নরখাদক গ্রেপ্তার সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২১, আহত ৪০ চীনে পাচারের ভয়ংকর ফাঁদ: রাজধানী থেকে ১২ পাহাড়ি নারী উদ্ধার রাশিয়ার অর্থায়নে পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি জাপানি বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা নিরলস কাজ করছি : বাণিজ্য উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫
  • / 340

ছবি: সংগৃহীত

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আমদানি ও রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বছরে ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলার আমদানি হলেও রপ্তানি সাধারণত ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু রপ্তানিকে নয়, প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমদানিকেও সমর্থন করতে চাই, কারণ আমদানি আমাদের অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

আরও পড়ুন  জাপানের সহায়তা ও বিনিয়োগে জোর দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আহ্বান

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শুল্ক কাঠামো সংস্কার, কাস্টমস ডিউটি পুনর্বিন্যাস এবং বিনিয়োগ সহজীকরণের বিকল্প নেই। কারণ, অর্থনীতিতে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিনিয়োগ ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি অপরিহার্য।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত কয়েক বছরে কোনো সুপরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ন্যূনতম দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ঘাটতি ছিল। এখন, যখন ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ, তখন বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি বাণিজ্য উদারীকরণ করি, তাহলে স্থানীয় বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখার কৌশলও নিতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় শিল্পগুলো বিপর্যস্ত না হয়।”

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট), পিটিএ (প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট), ইপিএ (ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) এবং সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) নিয়ে কাজ করছে। তবে এই চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ নয়, কারণ এতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতির যথাযথ ব্যবহার করতে হবে, যাতে বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত হয়।”

২০২০ সালে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পিটিএ স্বাক্ষরিত হলেও কার্যত এটি কোনো নতুন সুবিধা বয়ে আনেনি। বরং উল্টো বাণিজ্যের পরিমাণ কমে গেছে। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এটি শুধু একটি চুক্তির শিরোনাম ছিল, যার বাস্তব প্রভাব তেমন কিছুই দেখা যায়নি।” তিনি বলেন, “আমরা পাঁচ বছর সময় পেলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণের, যাতে আমাদের অর্থনীতি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।”

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা মসৃণ উত্তরণ কৌশল (এসটিএস) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন আর শুধু চুক্তির কাগজে স্বাক্ষর করেই বসে থাকতে পারে না, বরং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণের এখনই সময়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা নিরলস কাজ করছি : বাণিজ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৩:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আমদানি ও রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বছরে ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলার আমদানি হলেও রপ্তানি সাধারণত ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু রপ্তানিকে নয়, প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমদানিকেও সমর্থন করতে চাই, কারণ আমদানি আমাদের অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

আরও পড়ুন  ইরান সংঘাতকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করলেন ট্রাম্প

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শুল্ক কাঠামো সংস্কার, কাস্টমস ডিউটি পুনর্বিন্যাস এবং বিনিয়োগ সহজীকরণের বিকল্প নেই। কারণ, অর্থনীতিতে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিনিয়োগ ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি অপরিহার্য।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত কয়েক বছরে কোনো সুপরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ন্যূনতম দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ঘাটতি ছিল। এখন, যখন ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ, তখন বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি বাণিজ্য উদারীকরণ করি, তাহলে স্থানীয় বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখার কৌশলও নিতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় শিল্পগুলো বিপর্যস্ত না হয়।”

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট), পিটিএ (প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট), ইপিএ (ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) এবং সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) নিয়ে কাজ করছে। তবে এই চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ নয়, কারণ এতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতির যথাযথ ব্যবহার করতে হবে, যাতে বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত হয়।”

২০২০ সালে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পিটিএ স্বাক্ষরিত হলেও কার্যত এটি কোনো নতুন সুবিধা বয়ে আনেনি। বরং উল্টো বাণিজ্যের পরিমাণ কমে গেছে। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এটি শুধু একটি চুক্তির শিরোনাম ছিল, যার বাস্তব প্রভাব তেমন কিছুই দেখা যায়নি।” তিনি বলেন, “আমরা পাঁচ বছর সময় পেলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণের, যাতে আমাদের অর্থনীতি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।”

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা মসৃণ উত্তরণ কৌশল (এসটিএস) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন আর শুধু চুক্তির কাগজে স্বাক্ষর করেই বসে থাকতে পারে না, বরং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণের এখনই সময়।”