নতুন রাষ্ট্রপতি কে, আলোচনায় একাধিক নাম
- আপডেট সময় ১২:১০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 0
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন— তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির দলীয় ফোরামে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও, দলের বাইরে থেকে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কথা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও গতি পায়।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, সংকটকালে নেতৃত্ব এবং গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তির কারণে তাকে রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলের একটি অংশ।
তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছে। দলীয় নেতাদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার কারণে তারা এ পদের জন্য বিবেচনায় থাকতে পারেন।
এদিকে, দলীয় সূত্রের আভাস অনুযায়ী, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমানের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকেও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নাম বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে।
তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি দলের ভেতর থেকেই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের মতে, দলের বাইরের কাউকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি দলের ভেতর থেকেই নির্বাচিত হবেন। তবে আরেক নেতা অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। বিএনপি একক প্রার্থী দিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

























