ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চব্বিশে সম্মিলিত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে : রাষ্ট্রপতি বাহরাইনের জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের অতর্কিত হামলা প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম যুক্ত করে ত্রয়োদশ সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত নতুন নোট বিক্রি বেআইনি, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলেন আহমেদ আযম খান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ড. মোহাম্মদ ইউনূস বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ ছাড়লেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ যুদ্ধ ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে আরো শক্তিশালী করে ফেলবে— ইরানি গণতন্ত্রকামীদের মত যুদ্ধ বন্ধে ৩ শর্ত ইরানের; অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলার হুঁশিয়ারি

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম যুক্ত করে ত্রয়োদশ সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ছয় নেতা এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর প্রথা অনুযায়ী উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে তাঁদের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা অনুমোদন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এঁরা সকলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলী। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও এতে যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দণ্ডিতদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কার্যকর করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  ‘দ্য প্ল্যান’ নিয়ে চট্টগ্রামে তরুণদের মুখোমুখি তারেক রহমান

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শোকপ্রস্তাবটি ‘একপেশে’ হওয়ার অভিযোগ তুলে আরও কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর দাবির প্রেক্ষিতে আব্দুস সোবহান, এ কে এম ইউসুফসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয়। এছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের প্রস্তাবে আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুন এবং শরিফ ওসমান বিন হাদীর নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। শোকপ্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জোনায়েদ সাকিসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা প্রয়াতদের অবদান এবং জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনার শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই অধিবেশনটির মাধ্যমে সংসদের শোক প্রকাশের প্রথাগত তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন পরিলক্ষিত হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম যুক্ত করে ত্রয়োদশ সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত

আপডেট সময় ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ছয় নেতা এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর প্রথা অনুযায়ী উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে তাঁদের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা অনুমোদন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এঁরা সকলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলী। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও এতে যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দণ্ডিতদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কার্যকর করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  ফরিদপুরে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ আটক ৩

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শোকপ্রস্তাবটি ‘একপেশে’ হওয়ার অভিযোগ তুলে আরও কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর দাবির প্রেক্ষিতে আব্দুস সোবহান, এ কে এম ইউসুফসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয়। এছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের প্রস্তাবে আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুন এবং শরিফ ওসমান বিন হাদীর নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। শোকপ্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জোনায়েদ সাকিসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা প্রয়াতদের অবদান এবং জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনার শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই অধিবেশনটির মাধ্যমে সংসদের শোক প্রকাশের প্রথাগত তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন পরিলক্ষিত হলো।