ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘ব্যবসায়ী’ গভর্নর নিয়োগ, তাসনিম জারা ৫ প্রশ্ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 198

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগের পর তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের ভূমিকার পার্থক্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, সিনিয়র সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে তার বদল অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব ভিন্ন।

আরও পড়ুন  ব্যাংক খাত সংকট ও অর্থনৈতিক চাপে কিছু ব্যাংকের টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম: গভর্নর

তিনি লেখেন, গভর্নরের কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া। রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve–এর চেয়ারম্যানের চার বছরের মেয়াদের কথা উল্লেখ করেন।

ডা. জারা বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো সচিবালয়ের রদবদলের মতো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়; এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

তার তোলা পাঁচটি প্রশ্ন হলো:

১. নতুন গভর্নর কি সরকারের সঙ্গে দ্বিমত হলে তা প্রকাশ করতে পারবেন, নাকি সব সিদ্ধান্তই সরকারের অনুকূলে যাবে?
২. তিনি কি সত্যিকার অর্থে তার সব ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন?
৩. দীর্ঘদিনের সমস্যা খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় কী উদ্যোগ নেওয়া হবে?
৪. সুদের হার, মুদ্রা সরবরাহ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগের নীতি বহাল থাকবে, নাকি হঠাৎ পরিবর্তন আসবে?
৫. টাকার মান বাজারভিত্তিক থাকবে, নাকি কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে?

এর আগে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে ব্যবসায়ী নেতা মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ব্যবসায়ী’ গভর্নর নিয়োগ, তাসনিম জারা ৫ প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৩:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগের পর তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের ভূমিকার পার্থক্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, সিনিয়র সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে তার বদল অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব ভিন্ন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে জাপানপ্রবাসী ব্যবসায়ীদের মতবিনিময়

তিনি লেখেন, গভর্নরের কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া। রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve–এর চেয়ারম্যানের চার বছরের মেয়াদের কথা উল্লেখ করেন।

ডা. জারা বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো সচিবালয়ের রদবদলের মতো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়; এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

তার তোলা পাঁচটি প্রশ্ন হলো:

১. নতুন গভর্নর কি সরকারের সঙ্গে দ্বিমত হলে তা প্রকাশ করতে পারবেন, নাকি সব সিদ্ধান্তই সরকারের অনুকূলে যাবে?
২. তিনি কি সত্যিকার অর্থে তার সব ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন?
৩. দীর্ঘদিনের সমস্যা খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় কী উদ্যোগ নেওয়া হবে?
৪. সুদের হার, মুদ্রা সরবরাহ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগের নীতি বহাল থাকবে, নাকি হঠাৎ পরিবর্তন আসবে?
৫. টাকার মান বাজারভিত্তিক থাকবে, নাকি কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে?

এর আগে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে ব্যবসায়ী নেতা মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।