ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

তামাকের ক্ষতি গরুও বোঝে, মানুষ নয়: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 576

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘‘গরু ও ছাগল তামাকপাতা খায় না, কারণ তাদের বুদ্ধি আছে। অথচ মানুষ জানার পরও তা খায় এটা দুঃখজনক।’’

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজে পুরুষদের ধূমপানকে যেন স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছে। বড়দের সামনে ধূমপান করাকেও বেয়াদবি হিসেবে ধরা হয় না। এমনকি বর্তমানে ই-সিগারেটও বৈধতা পেয়েছে, যেটি ভয়ংকর এক প্রবণতা।’’

আরও পড়ুন  খাদ্য নিরাপত্তা নয়, দরকার খাদ্যে সার্বভৌমত্ব: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ফরিদা আখতার বলেন, ‘‘তামাক কম্পানিগুলো এমনভাবে নিজেদের প্রচার করে, যেন বাংলাদেশ সরকার তাদের টাকায় চলে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। সরকার চলে জনগণের টাকায়, কোনো তামাক কম্পানির টাকায় নয়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যে তরুণরা এই দেশের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে, সেই তরুণদের এখন টার্গেট করছে তামাক কম্পানিগুলো। তারা চায়, আমাদের তরুণ সমাজ তামাকে আসক্ত হোক, ধ্বংস হোক। কিন্তু আমি আশা করি, এই তরুণরাই এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিহত করবে।’’

তামাক চাষের ফলে পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘‘তামাক কম্পানিগুলো নদীর পাড়ে চাষ করে, যার ফলে মাছের প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি গরুপালনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু প্রাণি নয়, মানুষের প্রজনন ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে তামাকজাত পণ্যের কারণে।’’

আলোচনা সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তামাকের ভয়াবহতা ও জনস্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তুলে ধরেন এবং আগামী প্রজন্মকে এই মারাত্মক আসক্তি থেকে রক্ষা করতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

তামাকের ক্ষতি গরুও বোঝে, মানুষ নয়: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৮:২৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

 

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘‘গরু ও ছাগল তামাকপাতা খায় না, কারণ তাদের বুদ্ধি আছে। অথচ মানুষ জানার পরও তা খায় এটা দুঃখজনক।’’

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজে পুরুষদের ধূমপানকে যেন স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছে। বড়দের সামনে ধূমপান করাকেও বেয়াদবি হিসেবে ধরা হয় না। এমনকি বর্তমানে ই-সিগারেটও বৈধতা পেয়েছে, যেটি ভয়ংকর এক প্রবণতা।’’

আরও পড়ুন  খাদ্য নিরাপত্তা নয়, দরকার খাদ্যে সার্বভৌমত্ব: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ফরিদা আখতার বলেন, ‘‘তামাক কম্পানিগুলো এমনভাবে নিজেদের প্রচার করে, যেন বাংলাদেশ সরকার তাদের টাকায় চলে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। সরকার চলে জনগণের টাকায়, কোনো তামাক কম্পানির টাকায় নয়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যে তরুণরা এই দেশের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে, সেই তরুণদের এখন টার্গেট করছে তামাক কম্পানিগুলো। তারা চায়, আমাদের তরুণ সমাজ তামাকে আসক্ত হোক, ধ্বংস হোক। কিন্তু আমি আশা করি, এই তরুণরাই এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিহত করবে।’’

তামাক চাষের ফলে পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘‘তামাক কম্পানিগুলো নদীর পাড়ে চাষ করে, যার ফলে মাছের প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি গরুপালনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু প্রাণি নয়, মানুষের প্রজনন ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে তামাকজাত পণ্যের কারণে।’’

আলোচনা সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তামাকের ভয়াবহতা ও জনস্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তুলে ধরেন এবং আগামী প্রজন্মকে এই মারাত্মক আসক্তি থেকে রক্ষা করতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।