রমজানের জুমা ইবাদত ও মাগফিরাত অর্জনের অনন্য সময়
- আপডেট সময় ১১:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 23
রমজানের বরকতময় দিনগুলোতে জুমার বিশেষ তাৎপর্য ও আমল নিয়ে আলোচনা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। তাঁদের মতে, বছরের শ্রেষ্ঠ মাসে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিনটি মুমিনের জন্য সওয়াব ও মাগফিরাত অর্জনের মহাসুযোগ।
পবিত্র রমজান মাসকে বলা হয় ‘সায়্যিদুশ শুহুর’, অর্থাৎ মাসসমূহের শ্রেষ্ঠ। অন্যদিকে জুমার দিন ‘সায়্যিদুল আইয়াম’ বা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। রহমতের এই মাসে যখন জুমা আসে, তখন তা ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ এনে দেয়।
আমলের বিশেষ মর্যাদা
রমজানে যেকোনো নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, বনি আদমের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, তবে রোজা তাঁরই জন্য এবং এর প্রতিদান তিনিই দেবেন।
(সহিহ মুসলিম: ১১৫১)
এ থেকে বোঝা যায়, রোজাদারের ইবাদতের সওয়াব বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এবং সীমাহীন।
জুমার গুরুত্ব: কোরআনের নির্দেশনা
জুমার নামাজ সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, জুমার আজান হলে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হতে এবং বেচাকেনা বন্ধ করতে।
(কোরআন, সুরা জুমা: ৯)
আগেভাগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; পরবর্তী সময়ে যাওয়া ব্যক্তির সওয়াব ধাপে ধাপে কমতে থাকে। ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসে গেলে ফেরেশতারা সওয়াব লেখা বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন।
(সহিহ বুখারি: ৮৮১)
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়। নবী কারিম (স.) বলেন, কোনো মুসলিম যদি সেই সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করে, তবে তা কবুল করা হয়।
(সহিহ বুখারি: ৬৪০০)
অধিকাংশ আলেমের মতে, সময়টি আসরের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত।
গুনাহ মাফের সুসংবাদ
যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং খুতবার সময় নীরব থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ছোট গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়, যদি সে বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকে।
(সহিহ বুখারি: ৮৩৯)
জুমা ত্যাগের ভয়াবহতা
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অবহেলায় টানা তিন জুমা বর্জন করে, তার অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হতে পারে এবং সে গুরুতর গুনাহে লিপ্ত হয়।
(মুসনাদে আবু ইয়ালা: ২৭১২)
জুমার দিনের আদবের মধ্যে রয়েছে মেসওয়াক করা, গোসল, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত এবং বেশি বেশি দরুদ পাঠ। ব্যস্ত জীবনে রমজানের জুমা আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক অনন্য সুযোগ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের রমজানের প্রতিটি জুমার ফজিলত পূর্ণরূপে অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

























