০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শবে বরাতে নয়, লাইলাতুল কদরেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়: শায়খ আহমাদুল্লাহ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 127

ছবি সংগৃহীত

সারাদেশে আজ মঙ্গলবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। শবে বরাত ও ভাগ্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে এক আলোচনায় বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারণ হয়—এমন মত কিছু আলেমের মধ্যে থাকলেও অধিকাংশ বিশুদ্ধ দলিল ও ইমাম-মুফাসসিরদের মতে মানুষের সারা বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় লাইলাতুল কদরে। ইমাম কুরতুবী (রহ.)সহ প্রধান তাফসিরবিদদের অভিমত অনুযায়ী, সূরা দুখানে উল্লেখিত ‘বরকতময় রাত’ আসলে লাইলাতুল কদরই।

কোরআনের দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়েছে এবং সেই রাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়, তাই ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি মূলত শবে কদরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ভাগ্য নির্ধারণ যেদিনই হোক, একজন মুমিনের করণীয় হলো—আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা এবং সঠিক আমলের মাধ্যমে জীবন গড়ে তোলা। এ প্রসঙ্গে শবে বরাত উপলক্ষে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা তুলে ধরেন।

এসব আমলের মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন, বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, আল্লাহর দানে সন্তুষ্ট থাকা ও শুকরিয়া আদায়, সাদকা করা, নিয়মিত দোয়া করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। তিনি বলেন, শুধু একটি রাতের ইবাদতে নয়, বরং সারাবছর নেক আমলের ধারাবাহিক চেষ্টার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, শবে বরাতে রাতভর সমবেত ইবাদত বা পরদিন নির্দিষ্টভাবে রোজা রাখার বিষয়ে সহিহ হাদিস নেই। তবে শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা সুন্নত এবং আইয়ামে বীজে রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিদআত, কুসংস্কার ও বাড়াবাড়ির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আতশবাজি, আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি খাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট আচার পালনের কোনো ভিত্তি কোরআন-হাদিসে নেই। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন সবাইকে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন এবং শাবান মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদতের সুযোগ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শবে বরাতে নয়, লাইলাতুল কদরেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়: শায়খ আহমাদুল্লাহ

আপডেট সময় ০৯:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সারাদেশে আজ মঙ্গলবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। শবে বরাত ও ভাগ্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে এক আলোচনায় বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারণ হয়—এমন মত কিছু আলেমের মধ্যে থাকলেও অধিকাংশ বিশুদ্ধ দলিল ও ইমাম-মুফাসসিরদের মতে মানুষের সারা বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় লাইলাতুল কদরে। ইমাম কুরতুবী (রহ.)সহ প্রধান তাফসিরবিদদের অভিমত অনুযায়ী, সূরা দুখানে উল্লেখিত ‘বরকতময় রাত’ আসলে লাইলাতুল কদরই।

কোরআনের দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়েছে এবং সেই রাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়, তাই ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি মূলত শবে কদরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ভাগ্য নির্ধারণ যেদিনই হোক, একজন মুমিনের করণীয় হলো—আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা এবং সঠিক আমলের মাধ্যমে জীবন গড়ে তোলা। এ প্রসঙ্গে শবে বরাত উপলক্ষে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা তুলে ধরেন।

এসব আমলের মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন, বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, আল্লাহর দানে সন্তুষ্ট থাকা ও শুকরিয়া আদায়, সাদকা করা, নিয়মিত দোয়া করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। তিনি বলেন, শুধু একটি রাতের ইবাদতে নয়, বরং সারাবছর নেক আমলের ধারাবাহিক চেষ্টার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, শবে বরাতে রাতভর সমবেত ইবাদত বা পরদিন নির্দিষ্টভাবে রোজা রাখার বিষয়ে সহিহ হাদিস নেই। তবে শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা সুন্নত এবং আইয়ামে বীজে রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিদআত, কুসংস্কার ও বাড়াবাড়ির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আতশবাজি, আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি খাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট আচার পালনের কোনো ভিত্তি কোরআন-হাদিসে নেই। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন সবাইকে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন এবং শাবান মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদতের সুযোগ দেন।