মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধে ল্যান্ডফোনমুখী রাশিয়া
- আপডেট সময় ১২:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
রাশিয়ায় বারবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কারণে বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকারি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ল্যান্ডফোন কেনায় ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ল্যান্ডফোন কেনায় রাশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১১ কোটি ৮০ লাখ রুবল ব্যয় করেছে, যা প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ইউরোর সমান। একই সময়ে ল্যান্ডফোন কেনার দরপত্রের সংখ্যাও বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০২৫ সালের মে মাস থেকে রাশিয়ায় নিয়মিতভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা প্রতিরোধের জন্য এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকলেও পূর্বনির্ধারিত পথ অনুসরণ করে ড্রোন উড়তে পারে।
ইন্টারনেট বন্ধের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষও নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। ব্যাহত হচ্ছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। পাশাপাশি ট্যাক্সি ও খাবার সরবরাহের মতো সেবা পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ইন্টারনেটনির্ভর মানচিত্র ব্যবহার করতে না পারায় পথ খুঁজে পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকে।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রোস্তেলেকমের প্রধান মিখাইল ওসেয়েভস্কি প্রতিটি বাড়িতে ল্যান্ডফোন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মতোই প্রতিটি বাড়িতে একটি ল্যান্ডফোন থাকা উচিত।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য ল্যান্ডফোন ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে রাশিয়ায় প্রতি ১০০ জন মানুষের বিপরীতে ল্যান্ডফোনের সংখ্যা প্রায় ১২ দশমিক ২টি। তবে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা কমে ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৫-এর মধ্যে নেমে আসতে পারে।
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে একদিকে ল্যান্ডফোনের চাহিদা বাড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশটিতে এ যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।






















