হুতি দমনে যুক্ত হতে চায় ইসরাইল, সৌদি যুবরাজের অসম্মতি
- আপডেট সময় ০৬:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 10
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে সৌদি আরবের অনুমতি চাওয়া হলেও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় ইয়েমেনে হুতিবিরোধী অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন সৌদি যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর উদ্যোগের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সৌদি আরবের সমর্থন আদায়। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।
এর আগে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরব এখনও তার অবস্থানে অনড়। দেশটির শর্ত, ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে হবে।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযানে যুক্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল দিয়ে অগ্রসর হয়ে হুতি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপ দখল করে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবহন করা হয়।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে থাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। তীব্র সংঘর্ষের পর তারা মোখা পুনর্দখল করে।
এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এসব হামলার মধ্যে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। পরদিন রোববারের আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
শনিবারের হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এবং সৌদি আরবের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

























